দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকাগুলো ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ মোট পাঁচটি জেলায় বন্যার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদী—ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী, মগরা এবং মনু নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার এবং মনু নদীর পানি ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব নদ-নদীর পানি আরও বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সক্রিয় মেঘমালার প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বজায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারী বর্ষণের ফলে কেবল নদ-নদী নয়, বরং গ্রামীণ সড়ক, নিচু এলাকা এবং ফসলি জমিও পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরমা ও কুশিয়ারার মতো ছোট ও দ্রুত প্রবাহমান নদীগুলোতে বৃষ্টির প্রভাব দ্রুত পড়ে, যা প্লাবন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বর্তমানে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























