ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ে বড় সাফল্য: পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খেলাপি ঋণের পাহাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) কৃষি খাতে মোট ২৭ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে; এই সময়ে আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের অন্তত ২ শতাংশ এই খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে এবং পিকেএসএফ ও গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার ২৩১ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে।

তবে ঋণ বিতরণে এই উল্লম্ফনের মাঝেও অশনিসংকেত দিচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দুর্বল ব্যবস্থাপনা, নতুন শ্রেণিকরণ নীতিমালা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন সম্ভাবনা অনুযায়ী ঋণ বিতরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নীতিমালায় প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আদা, রসুন, খেজুর গুড়সহ নতুন কিছু ফসলকে ঋণের আওতায় আনা হয়েছে এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সিআইবি চার্জ মওকুফ করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতা বাড়িয়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিলে দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কমে আসবে এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তবে বড় অংকের এই খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে মা-মেয়ের গণধর্ষণ: উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ে বড় সাফল্য: পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খেলাপি ঋণের পাহাড়

আপডেট সময় : ০৫:২৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) কৃষি খাতে মোট ২৭ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে; এই সময়ে আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের অন্তত ২ শতাংশ এই খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে এবং পিকেএসএফ ও গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার ২৩১ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে।

তবে ঋণ বিতরণে এই উল্লম্ফনের মাঝেও অশনিসংকেত দিচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দুর্বল ব্যবস্থাপনা, নতুন শ্রেণিকরণ নীতিমালা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন সম্ভাবনা অনুযায়ী ঋণ বিতরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নীতিমালায় প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আদা, রসুন, খেজুর গুড়সহ নতুন কিছু ফসলকে ঋণের আওতায় আনা হয়েছে এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সিআইবি চার্জ মওকুফ করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতা বাড়িয়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিলে দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কমে আসবে এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তবে বড় অংকের এই খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।