বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজারের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জেলার ৫২টি মৃতপ্রায় খাল পুনঃখননের একটি বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রায় ২১৮ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ পুনরুদ্ধারে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকারও বেশি। গত কয়েক দশকে দখল, ভরাট ও নাব্যতা হারিয়ে কক্সবাজারের এই প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল, যা প্রতি বছর শহর ও গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আসছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কেবল জলাবদ্ধতাই দূর হবে না, বরং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং লবণ ও মাছ চাষসহ সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাতিলা খালসহ পাঁচটি খাল পুনঃখনন করা হবে, যা শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। রামুতে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে মিঠাছড়ি ও লামার খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। উপকূলীয় মহেশখালীর বরোদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা খাল এবং চকরিয়ার মগ খালের খনন কাজ শেষ হলে লবণ ও কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও টেকনাফ, উখিয়া (রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা), পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার খালগুলো এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও উল্টাখালীর মতো কয়েকটি খালের কাজ শেষ হয়েছে এবং এর সুফল মিলতে শুরু করেছে।
তবে এই প্রকল্পের টেকসই সাফল্য নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, কেবল পুনঃখনন করলেই হবে না, খালগুলোকে দখলমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে স্বচ্ছতার সাথে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমান তালিকার বাইরে আরও ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৮টি খালের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই বিশাল জলপথ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে কক্সবাজারের পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















