ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ডিজিটাল আইন নিয়ে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ: বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে

সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল আইনগুলো মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডিজিটাল রাইটস এশিয়া-প্যাসিফিক বাংলাদেশ জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন এবং সংশোধিত টেলিযোগাযোগ আইনের অনেক ধারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পুরোনো দমনমূলক আইনগুলোই মূলত নতুন নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অতীতের অপব্যবহারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের আইন প্রণয়ন করায় সরকারের জবাবদিহিতা ও জনক্ষমতায়ন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সম্মেলনে অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি করে এসব আইন পাস করার সমালোচনা করা হয়।

অধিবেশনে ডেইলি স্টারের জয়েন্ট এডিটর আশা মেহরীন আমিন উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ফেসবুক পোস্টের জন্য মামলা এবং সাংবাদিকদের ওপর নজরদারির ঝুঁকি আগের মতোই রয়ে গেছে। ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ প্রতিটি আইনকে মানবাধিকারের নিরিখে পুনরায় পর্যালোচনার তাগিদ দেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন আইনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করে প্রয়োজনে সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা এবং টেলিনর এশিয়ার প্রতিনিধিরা উপাত্ত স্থানীয়করণ এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কর্তৃত্ব নিয়ে তাদের চার বছরের লড়াই ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন স্বীকার করেন যে, শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর লবিংয়ের কারণে অনেক সময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আস্থার অভাব তৈরি হয়।

সম্মেলনে স্থানীয় স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন যে, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তাদের কণ্ঠ হারিয়ে যাচ্ছে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না থাকায় ছোট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সমাপনী বক্তব্যে ডিজিটাল রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে কেবল সরকার বা কোম্পানি নয়, বরং নাগরিক সমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতের প্রতিফলন থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উপাত্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৪ জনের প্রাণহানি, ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল আইন নিয়ে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ: বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে

আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল আইনগুলো মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডিজিটাল রাইটস এশিয়া-প্যাসিফিক বাংলাদেশ জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন এবং সংশোধিত টেলিযোগাযোগ আইনের অনেক ধারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পুরোনো দমনমূলক আইনগুলোই মূলত নতুন নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অতীতের অপব্যবহারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের আইন প্রণয়ন করায় সরকারের জবাবদিহিতা ও জনক্ষমতায়ন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সম্মেলনে অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি করে এসব আইন পাস করার সমালোচনা করা হয়।

অধিবেশনে ডেইলি স্টারের জয়েন্ট এডিটর আশা মেহরীন আমিন উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ফেসবুক পোস্টের জন্য মামলা এবং সাংবাদিকদের ওপর নজরদারির ঝুঁকি আগের মতোই রয়ে গেছে। ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ প্রতিটি আইনকে মানবাধিকারের নিরিখে পুনরায় পর্যালোচনার তাগিদ দেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন আইনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করে প্রয়োজনে সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা এবং টেলিনর এশিয়ার প্রতিনিধিরা উপাত্ত স্থানীয়করণ এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কর্তৃত্ব নিয়ে তাদের চার বছরের লড়াই ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন স্বীকার করেন যে, শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর লবিংয়ের কারণে অনেক সময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আস্থার অভাব তৈরি হয়।

সম্মেলনে স্থানীয় স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন যে, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তাদের কণ্ঠ হারিয়ে যাচ্ছে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না থাকায় ছোট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সমাপনী বক্তব্যে ডিজিটাল রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে কেবল সরকার বা কোম্পানি নয়, বরং নাগরিক সমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতের প্রতিফলন থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উপাত্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।