সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে হত্যা মামলায় পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের এসআই কফিল উদ্দিন মিরপুর মডেল থানায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আসামি মাসুদকে আদালতে হাজির করেন। এ মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি।
পরে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি ১/১১ এর একজন কুশীলব। তারেক রহমানকে পিটিয়ে কোমর ভেঙে দিয়েছেন। তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলে উঠেন ‘এটা মিথ্যা’। ডিফেন্সের লোক হওয়ায় তারা রিমান্ডে ভাসাভাসা তথ্য দিচ্ছে। আওয়ামী সময়ের সব গুম-খুনের কারিগর তারা। ধীরে ধীরে তথ্য আশা শুরু করেছে। সুতরাং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে তাকে আবার রিমান্ডে পাঠানো হোক। আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে বলেন, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এ মামলায় দু’দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। কী পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা তা উল্লেখ করেননি। ১৫ দিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। জোর করে তাকে হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের দয়া চাচ্ছি যেনো তার অসুস্থতা বিবেচনা করে তাকে রিমান্ডে না নেওয়া হয়।
শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডে নেওয়ার ওই আদেশ দেন। এর আগে গত ১১ এপ্রিল আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ১২ এপ্রিল তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 




















