ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

হাওরের ধান কাটা নিয়ে দুই সংকটে কৃষক: জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক হাহাকার

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ৯ বছর আগের অকাল বন্যার দুঃসহ স্মৃতি যেন আবারও ফিরে আসছে। একদিকে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট—এই দুই সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে উজানের ঢলে ২ লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার মহাবিপর্যয়ের পর, ২০২৬ সালের এই এপ্রিলেও একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কয়েক লাখ কৃষক।

সুনামগঞ্জের ১২৩টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টোর জমিতে বোরো আবাদ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৮ শতাংশের মতো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক হাওরে পানি জমে যাওয়ায় ধান এখন জলমগ্ন। এর ফলে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, কারণ নরম মাটি ও পানিতে মেশিন চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে, ডিজেলের উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে যেসব এলাকায় মেশিন চলছে, সেখানেও কৃষকদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

ফসলের এই ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকট এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। স্থানীয় প্রশাসন বালু মহালগুলো বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের ধান কাটায় নিয়োজিত করার চেষ্টা করলেও চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। অনেক কৃষক নিজের সন্তানদের নিয়ে পানির নিচে থাকা ধান কোনোমতে কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, জেলা প্রশাসন হারভেস্টার মেশিনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ এবং জেলার বাইরে থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বাকি বিশাল অংশের ফসল কতটুকু রক্ষা পাবে, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে আবারও সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক?

হাওরের ধান কাটা নিয়ে দুই সংকটে কৃষক: জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক হাহাকার

আপডেট সময় : ০২:৫৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ৯ বছর আগের অকাল বন্যার দুঃসহ স্মৃতি যেন আবারও ফিরে আসছে। একদিকে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট—এই দুই সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে উজানের ঢলে ২ লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার মহাবিপর্যয়ের পর, ২০২৬ সালের এই এপ্রিলেও একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কয়েক লাখ কৃষক।

সুনামগঞ্জের ১২৩টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টোর জমিতে বোরো আবাদ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৮ শতাংশের মতো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক হাওরে পানি জমে যাওয়ায় ধান এখন জলমগ্ন। এর ফলে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, কারণ নরম মাটি ও পানিতে মেশিন চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে, ডিজেলের উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে যেসব এলাকায় মেশিন চলছে, সেখানেও কৃষকদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

ফসলের এই ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকট এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। স্থানীয় প্রশাসন বালু মহালগুলো বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের ধান কাটায় নিয়োজিত করার চেষ্টা করলেও চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। অনেক কৃষক নিজের সন্তানদের নিয়ে পানির নিচে থাকা ধান কোনোমতে কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, জেলা প্রশাসন হারভেস্টার মেশিনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ এবং জেলার বাইরে থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বাকি বিশাল অংশের ফসল কতটুকু রক্ষা পাবে, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।