ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

গণভোটের রায় উপেক্ষা: রাজনৈতিক বিভেদ ও অনিশ্চয়তার আশঙ্কা

ক্ষমতায় এসে সুর পরিবর্তন, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আইনের অপব্যবহার, দুর্নীতি ও লুটপাট অব্যাহত রাখতে ভিত্তিহীন অজুহাত দেখিয়ে সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া কিংবা জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। দেশের আইন, আদালত ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে জনগণ এবং জনগণের কল্যাণই মূল উদ্দেশ্য। সংবিধানের কিছু ধারা দলীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত থাকায় সেগুলো মানা হচ্ছে, আর যেগুলো দলীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা দেশকে আবার এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে দেশকে রক্ষায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু গণভোটসহ বিভিন্ন সংস্কার বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান সেই ঐক্যে বড় ফাটল ধরাচ্ছে। যে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি আজ গণভোট ও ৬৯ শতাংশ মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, সেই সংসদ নির্বাচনই সংবিধান মেনে হয়নি। একই দিনে একই তফসিলে দুটি নির্বাচন হলে একটি অবৈধ হলে অন্যটি বৈধ হয় কী করে? গণভোটের বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ছিল একটি দলের, জনগণের নয়। জনগণ সর্বসম্মতিক্রমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে একটি দল কি তা উপেক্ষা করতে পারে? বিশেষ করে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জনগণের সংখ্যা দলের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক বেশি হয়? বিভেদ ও বিতর্ক শুধু গণভোট বা মৌলিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের বেশ কিছু কর্মকাণ্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ, সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ এবং ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাবশালীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ। এইসব সিদ্ধান্ত জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫০০ টাকায় স্মার্টফোন: সাধারণ মানুষের নাগালে প্রযুক্তি নিতে সরকারের বড় উদ্যোগ

গণভোটের রায় উপেক্ষা: রাজনৈতিক বিভেদ ও অনিশ্চয়তার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ক্ষমতায় এসে সুর পরিবর্তন, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আইনের অপব্যবহার, দুর্নীতি ও লুটপাট অব্যাহত রাখতে ভিত্তিহীন অজুহাত দেখিয়ে সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া কিংবা জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। দেশের আইন, আদালত ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে জনগণ এবং জনগণের কল্যাণই মূল উদ্দেশ্য। সংবিধানের কিছু ধারা দলীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত থাকায় সেগুলো মানা হচ্ছে, আর যেগুলো দলীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা দেশকে আবার এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে দেশকে রক্ষায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু গণভোটসহ বিভিন্ন সংস্কার বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান সেই ঐক্যে বড় ফাটল ধরাচ্ছে। যে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি আজ গণভোট ও ৬৯ শতাংশ মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, সেই সংসদ নির্বাচনই সংবিধান মেনে হয়নি। একই দিনে একই তফসিলে দুটি নির্বাচন হলে একটি অবৈধ হলে অন্যটি বৈধ হয় কী করে? গণভোটের বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ছিল একটি দলের, জনগণের নয়। জনগণ সর্বসম্মতিক্রমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে একটি দল কি তা উপেক্ষা করতে পারে? বিশেষ করে যখন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জনগণের সংখ্যা দলের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক বেশি হয়? বিভেদ ও বিতর্ক শুধু গণভোট বা মৌলিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের বেশ কিছু কর্মকাণ্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ, সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ এবং ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাবশালীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ। এইসব সিদ্ধান্ত জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে।