ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিমানবন্দর-রেল-মেট্রো-টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদার: ১৩ নভেম্বরের রায় ও ‘লকডাউন’ ঘিরে সতর্কতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই দিনটিকে লক্ষ্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি এবং বিচ্ছিন্ন নাশকতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

গোয়েন্দা সূত্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দুষ্কৃতকারীরা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকজান এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি এনসিপি কার্যালয়, গ্রামীণ ব্যাংক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে টার্গেট করেও হামলা চালানো হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কঠোর নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

এই পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, মেট্রোরেল রুট এবং নৌ ও বাস টার্মিনালসহ সকল গণপরিবহন কেন্দ্র এখন কঠোর নজরদারিতে। বিশেষ করে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল রুটে অতিরিক্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশি ও লাগেজ স্ক্যানিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেবিচক (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) দেশের সকল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে চিঠিও দিয়েছে।

গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণসমাবেশ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো নানা ধরনের গুজব এবং অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কাউকে রাজপথে দেখা না গেলেও নিরীহ রিকশাওয়ালাকে টাকা দিয়ে স্লোগান দেওয়ানোর মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এই ধরনের প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খল কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক। সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে প্রযুক্তিগত সহায়তায় দলীয় কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা

  • বিজিবি মোতায়েন: ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
  • র‍্যাব: র‍্যাবের গোয়েন্দা ও সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করছে। র‍্যাবের ৭০টিরও বেশি টহল দল রাজধানীসহ সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে।
  • ডিএমপি: ডিএমপির প্রত্যেক ক্রাইম ডিভিশনে আভিযানিক টিম বাড়ানো হয়েছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নকারীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
  • এমআরটি পুলিশ: মেট্রোরেলের সব স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সার্ভিলেন্স বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের চেকিংয়ে একদিনেই ২০০ গ্যাস লাইটার জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং যেকোনো নাশকতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের আছে। তারা সন্দেহজনক আগন্তুকদের বিষয়ে থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

বিমানবন্দর-রেল-মেট্রো-টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদার: ১৩ নভেম্বরের রায় ও ‘লকডাউন’ ঘিরে সতর্কতা

আপডেট সময় : ১২:০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই দিনটিকে লক্ষ্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি এবং বিচ্ছিন্ন নাশকতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

গোয়েন্দা সূত্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দুষ্কৃতকারীরা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকজান এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি এনসিপি কার্যালয়, গ্রামীণ ব্যাংক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে টার্গেট করেও হামলা চালানো হয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কঠোর নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

এই পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, মেট্রোরেল রুট এবং নৌ ও বাস টার্মিনালসহ সকল গণপরিবহন কেন্দ্র এখন কঠোর নজরদারিতে। বিশেষ করে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল রুটে অতিরিক্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশি ও লাগেজ স্ক্যানিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেবিচক (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) দেশের সকল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে চিঠিও দিয়েছে।

গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণসমাবেশ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো নানা ধরনের গুজব এবং অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কাউকে রাজপথে দেখা না গেলেও নিরীহ রিকশাওয়ালাকে টাকা দিয়ে স্লোগান দেওয়ানোর মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এই ধরনের প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খল কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক। সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে প্রযুক্তিগত সহায়তায় দলীয় কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা

  • বিজিবি মোতায়েন: ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
  • র‍্যাব: র‍্যাবের গোয়েন্দা ও সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করছে। র‍্যাবের ৭০টিরও বেশি টহল দল রাজধানীসহ সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে।
  • ডিএমপি: ডিএমপির প্রত্যেক ক্রাইম ডিভিশনে আভিযানিক টিম বাড়ানো হয়েছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নকারীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
  • এমআরটি পুলিশ: মেট্রোরেলের সব স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সার্ভিলেন্স বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের চেকিংয়ে একদিনেই ২০০ গ্যাস লাইটার জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং যেকোনো নাশকতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের আছে। তারা সন্দেহজনক আগন্তুকদের বিষয়ে থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।