ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ, ওসিকে ফিরে আসার আহ্বান

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন থানায় গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দেখা না পাওয়ায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া আটকে আছে।

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সাথে ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, “যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটি নিজেই একটি থানা— শাহবাগ থানা। অথচ, মামলা করতে গিয়ে সেই থানার ওসিকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি আরও বলেন, থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই এমন ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সময়ে মামলা গ্রহণে গড়িমসি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি ওসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ওসি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা বলব আপনি আত্মগোপন না করে ফিরে আসুন এবং মামলা গ্রহণ করুন।” তিনি বলেন, থানার ওসি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কী বার্তা দেয়? এই হামলার দায় তার উপর সমানভাবে বর্তায়। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান করব, আপনারা ফ্যাসিবাদী আচরণ করবেন না।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম সত্য প্রকাশের পরিবর্তে যদি ক্ষমতার পক্ষে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তাহলে রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হয়। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি বলেন, “যে জায়গায় হামলা হয়েছে, সেটি পুলিশের কম্পাউন্ড। সুতরাং সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। অবিলম্বে মামলা গ্রহণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এমন ঘটনা দেখেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাদের আন্দোলনে অতীতে সহযোগিতা করা হয়েছে, ত…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইল ইস্যুতে লেবাননে গভীর বিভেদ: মুখোমুখি সরকার ও হিজবুল্লাহ

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ, ওসিকে ফিরে আসার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:০২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন থানায় গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দেখা না পাওয়ায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া আটকে আছে।

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সাথে ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, “যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটি নিজেই একটি থানা— শাহবাগ থানা। অথচ, মামলা করতে গিয়ে সেই থানার ওসিকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি আরও বলেন, থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই এমন ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সময়ে মামলা গ্রহণে গড়িমসি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি ওসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ওসি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা বলব আপনি আত্মগোপন না করে ফিরে আসুন এবং মামলা গ্রহণ করুন।” তিনি বলেন, থানার ওসি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কী বার্তা দেয়? এই হামলার দায় তার উপর সমানভাবে বর্তায়। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান করব, আপনারা ফ্যাসিবাদী আচরণ করবেন না।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম সত্য প্রকাশের পরিবর্তে যদি ক্ষমতার পক্ষে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তাহলে রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হয়। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি বলেন, “যে জায়গায় হামলা হয়েছে, সেটি পুলিশের কম্পাউন্ড। সুতরাং সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। অবিলম্বে মামলা গ্রহণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এমন ঘটনা দেখেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাদের আন্দোলনে অতীতে সহযোগিতা করা হয়েছে, ত…