ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একাকী সংগ্রাম: হারানো মানুষের সন্ধানে

গরমের ছুটিতে স্কুল প্রাঙ্গণ যখন জনশূন্য, তখনো প্রধান শিক্ষক রঘুনাথ রোজ নিয়ম করে স্কুলে আসেন। অফিসের পুরোনো গামারি কাঠের চেয়ারটি তাঁর সহচর, যার নড়বড়ে পায়াগুলো যেন বয়সের ভারের প্রতীক। তবুও সেই চেয়ারে বসেই তিনি দিনের পর দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন, কলমের কালিতে করেন সংশোধন। তাঁর মোটা ফ্রেমের কালো চশমাটি প্রায় তিন যুগ ধরে তাঁর সঙ্গী, আশ্চর্যরকম ঝকঝকে।

শরীরের বার্ধক্য তাঁকে এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসতে দেয় না। মেরুদণ্ডের যন্ত্রণায় সোজা হয়ে বসা কঠিন। তবুও তিনি কাজ করে যান, যেন শামুকের খোলসের মতো নিজেকে গুটিয়ে ফেলার আগে জীবনের শেষটুকু সমর্পণ করতে চান কর্মযজ্ঞে।

একদিন স্কুলের কাছাকাছি এক মোড়ে দু’জন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রঘুনাথ তাদের দিকে এগিয়ে যান। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই তারা সটকে পড়ে। রঘুনাথও তাদের পিছু ধাওয়া করেন, কিন্তু শরীরের সীমাবদ্ধতা তাঁকে থামিয়ে দেয়। ক্ষোভে তিনি চশমা খুলে রাস্তায় থুতু ফেলেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে ওই লোক দুটির ওপর ক্ষোভ উগরে দেয়। রঘুনাথের রাগ তখনো কমেনি, তিনি চেয়েছিলেন ওই লোক দুটিকে পিষে ফেলতে।

এদিকে, করাতকলের ছাপরার আড়ালে আশ্রয় নেওয়া হাসমত ও রাশু নামের ওই দুজন লোক চৈত্র মাসের তেতে ওঠা রোদে হাঁপাতে থাকে। তারা বুঝতে পারে, সামান্যের জন্য তারা ধরা পড়েনি। রাশু হেসে বলে, ‘শালার হেডমাস্টার আমাগো দেখলেই…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি নেতাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৯ জন আটক

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একাকী সংগ্রাম: হারানো মানুষের সন্ধানে

আপডেট সময় : ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গরমের ছুটিতে স্কুল প্রাঙ্গণ যখন জনশূন্য, তখনো প্রধান শিক্ষক রঘুনাথ রোজ নিয়ম করে স্কুলে আসেন। অফিসের পুরোনো গামারি কাঠের চেয়ারটি তাঁর সহচর, যার নড়বড়ে পায়াগুলো যেন বয়সের ভারের প্রতীক। তবুও সেই চেয়ারে বসেই তিনি দিনের পর দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন, কলমের কালিতে করেন সংশোধন। তাঁর মোটা ফ্রেমের কালো চশমাটি প্রায় তিন যুগ ধরে তাঁর সঙ্গী, আশ্চর্যরকম ঝকঝকে।

শরীরের বার্ধক্য তাঁকে এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসতে দেয় না। মেরুদণ্ডের যন্ত্রণায় সোজা হয়ে বসা কঠিন। তবুও তিনি কাজ করে যান, যেন শামুকের খোলসের মতো নিজেকে গুটিয়ে ফেলার আগে জীবনের শেষটুকু সমর্পণ করতে চান কর্মযজ্ঞে।

একদিন স্কুলের কাছাকাছি এক মোড়ে দু’জন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রঘুনাথ তাদের দিকে এগিয়ে যান। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই তারা সটকে পড়ে। রঘুনাথও তাদের পিছু ধাওয়া করেন, কিন্তু শরীরের সীমাবদ্ধতা তাঁকে থামিয়ে দেয়। ক্ষোভে তিনি চশমা খুলে রাস্তায় থুতু ফেলেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে ওই লোক দুটির ওপর ক্ষোভ উগরে দেয়। রঘুনাথের রাগ তখনো কমেনি, তিনি চেয়েছিলেন ওই লোক দুটিকে পিষে ফেলতে।

এদিকে, করাতকলের ছাপরার আড়ালে আশ্রয় নেওয়া হাসমত ও রাশু নামের ওই দুজন লোক চৈত্র মাসের তেতে ওঠা রোদে হাঁপাতে থাকে। তারা বুঝতে পারে, সামান্যের জন্য তারা ধরা পড়েনি। রাশু হেসে বলে, ‘শালার হেডমাস্টার আমাগো দেখলেই…’