অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ) ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে থাকে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দেড় দশকের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে lওই সময়ের ১৮ মাসে মোট ৫৭টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করে এমআরএ।
এর মধ্যে একক বছর হিসাবে ২০২৫ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক এনজিওর নিবন্ধন বাতিলের ঘটনা ঘটে। ওই বছর ৪৮টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করে এমআরএ।
এই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ছিলেন ক্ষুদ্রঋণের প্রথিকৃৎ ড. ইউনূস।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দিয়েছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৬০০ কোটি টাকার বেশি কর দাবি ছিল রাজস্ব বোর্ডের।
ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপন জারি করে গ্রামীণ ব্যাংককে কর অব্যাহতি দেয়। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের অর্জিত সব আয়কে আয়কর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদের হাত ধরে গড়ে ওঠা গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ মডেল নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে চর্চা হয় বলেও জানা যায়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ওই বছরের ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ইউনূস।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৯টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এগুলো হলো, মানব সেবা সংস্থা, বিলহামলা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিএস), চেতনা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা (সিএমইউএস), উপমা (উন্নয়নের পথে মানুষ), আদর্শ ফাউন্ডেশন, জনসেবা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (জেডিএস), হিতৈষী বাংলাদেশ, আশার আলো সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এএসকেএস) ও উদয়ন-বাংলাদেশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়া এনজিওগুলো হলো, আলোকন, এগিয়ে চল, মালঞ্চ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ঝাউদিয়া গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা, গণ উন্নয়ন একাডেমী, রূপা, গণী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নারী ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন (এনএসকেএফ), বাংলাদেশ রুরাল ইউথ ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশন (বারিও), আস্থা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, গ্রামের আলো, ভালুকা ফাউন্ডেশন, জয়বাংলা নারী উন্নয়ন সংস্থা, গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা (জিইউএস), হিউম্যান এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (হার্ড), বাংলাদেশ সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমী (বিএসডিএ), গ্রামীণ প্রসার, সোসাইটি অব রেনেসাঁ বাংলাদেশ (এসআরবি), বদলগাছী মানব কল্যাণ সংস্থা, অগ্রদূত ফাউন্ডেশন, প্রান্তিক উন্নয়ন সোসাইটি, সেভিয়ার, আর পি ডি এস, স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পিপাসা), প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা, সোসাল অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এস.সি.ডি.এফ), Sustainable Upliftment Initiative Trust, মৈত্রী পল্লী উন্নয়ন সংগঠন (এমপিইউএস), ইকো সোসাইটি।
এছাড়া নিবন্ধন বাতিলের তালিকায় আরও রয়েছে, মানব কল্যাণ সংস্থা, গ্রাউস, হাম ট্রাস্ট, পারভিন সমাজ কল্যাণ সংস্থা, উত্তরায়ণ জনকল্যাণ মহিলা সমিতি, তরঙ্গ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, পদ্মা-গড়াই মানবিক উন্নয়ন সংস্থা, এসডিও ফাউন্ডেশন, অগ্রপথিক ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশাল এডভান্সমেন্ট (জিসা), সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, স্যানফ্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (এসডব্লিউএফ), জাগরণী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, সমাজ উন্নয়ন কর্ম (সার্ক), অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, পল্লী সহযোগী বিষয়ক সংস্থা (আরকো), সেতু বাংলাদেশ, ব্রীজ, SEHED SOCIETY। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিদায় নেন ড. ইউনূস।
দেড় দশকে বাতিল ২৩৫টি এনজিও
এমআরএর হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেড় দশকে মোট ২৩৫টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। বছরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ সালে ৩টি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু হলেও ২০১২ সালে নিবন্ধন বাতিলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭টিতে। ২০১৩ সালে ১৮টি এবং ২০১৪ সালে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা কমে ৮টিতে নামে। ২০১৬ সালে ফের ১৫টি এবং ২০১৭ সালে ৯টি এনজিওর অনুমোদন বাতিল করা হয়। ২০১৮ সালে বাতিল হয় ২১টি, ২০১৯ সালে ৯টি এবং ২০২০ সালে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স। ২০২১ সালে মাত্র ১টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল হলেও, ২০২২ সালে ৮টি, ২০২৩ সালে ১২টি এবং ২০২৪ সালে ২৫টি এনজিওর অনুমোদন বাতিল করে এমআরএ।
এক মাসেই ৭ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার অনুমোদন বাতিল
এমআরএ গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৭টি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করেছে। এমআরএ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম ভঙ্গ, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চলছিল। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ায় চূড়ান্তভাবে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
অনুমোদন বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরের ‘আর্থ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা’, ঢাকার ধামরাইয়ের ‘প্রগতি কেন্দ্র’, চুয়াডাঙ্গার ‘ঊষা বাংলাদেশ’, বরিশাল অঞ্চলের ‘এ্যাসোসিয়েশন অব ভল্যান্টারি এ্যাকশন ফর সোসাইটি (আভাস)’, মেহেরপুরের ‘রুরাল রিকনস্ট্রাকশন সোসাইটি’, রাজশাহীর ‘সীড প্রোগ্রাম অব গ্রামীণ সোসাইটি’ এবং টাঙ্গাইলের ‘যৌথ উদ্যোগ’। এমআরএর কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত পরিদর্শনে এসব প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
ক্ষুদ্র ঋণ খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া এবং এমআরএ-এর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, এমআরএর কাছে সবার আগে গ্রাহক এবং আমানতকারীর স্বার্থ। গ্রাহক স্বার্থে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের প্রণীত কঠোর নিয়ম ও বিধিবিধান পরিপালন করতে হয়। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ ও স্থায়িত্ব রক্ষা করতে হয়, তেমনি অন্যদিকে ঋণের প্রকৃত গ্রাহক বা আমানতকারীর কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে এমআরএ বসে থাকে না; বরং ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।
ড. হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, যখনই কোনো প্রতিষ্ঠান আইন ও নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটায় এবং এর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সংস্থা বা সাধারণ আমানতকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঘটনা আমাদের নজরে আসে, তখনই প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হুট করেই কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয় না। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত গ্রহণ প্রক্রিয়া, তাদের মোট মূলধনের সাপেক্ষে আমানত সংগ্রহের সীমা, ঋণ বিতরণের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ সুদের হার বা সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমআরএ-এর সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি রয়েছে।
লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ম সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে এমআরএ নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ে নিবিড় পরিদর্শন করে থাকে। আমাদের পরিদর্শকদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ত্রুটি-বিচ্যুতি বা আর্থিক অসংগতি পাওয়া যায়, তবে তা মূল্যায়ন করে প্রথমে তাদের সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তারা নিয়মগুলো পরিপালন করেছে কি না এবং সংশোধিত হয়েছে কি না, তা দেখতে পুনরায় পরিদর্শক দলকে মাঠ পর্যায়ে পাঠোনো হয়। এভাবে ধাপে ধাপে কয়েকবার সুযোগ দেওয়ার পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম মানতে বা গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়, তখনই এমআরএর আইনি ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। এর সদুত্তর না পেলে লাইসেন্স বাতিল করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না।’
এমআরএ সূত্র জানায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে যেখানে ১ টাকা মূলধনের বিপরীতে ৯ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকে, সেখানে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই অনুপাত সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমআরএর নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ১০০ টাকা নিজস্ব মূলধনের বিপরীতে সঞ্চয় গ্রহণের সীমা অনেক কম এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেই লাগামহীনভাবে গ্রাহকের টাকা নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করতে পারে না।
বিশেষ করে দেশের বড় বড় ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নজরদারি ও আর্থিক কাঠামো এতটাই সুদৃঢ় যে, তাদের পর্যাপ্ত লিকুইড ফান্ড ও স্থাবর সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সংরক্ষিত তহবিল এবং স্থাবর সম্পদই মূলত বড় এনজিওগুলোকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে শীর্ষস্থানীয় বা বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সঞ্চয়কারীর অর্থ হারানোর বা পথে বসার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
পলাতক মালিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ
ক্ষুদ্র ঋণ খাতে সবচেয়ে বড় মানবিক ও আইনি বিপর্যয় ঘটে তখন, যখন কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি প্রতিষ্ঠান চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি বা লোকসানের কারণে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, অথবা রাতের আঁধারে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ভয়াবহ জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এমআরএর পর্যালোচনায় দেখা যায়, মালিক পালিয়ে গেলে বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে মাঠপর্যায়ে যারা ঋণগ্রহীতা থাকেন, তারা আর গৃহীত ঋণ ফেরত দিতে চান না। তারা মনে করেন প্রতিষ্ঠান তো নেই, টাকা কাকে দেব। অন্যদিকে, ঋণের টাকা আদায় না হওয়া এবং মালিক না থাকার কারণে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার আইনি সংযোগটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সেইসব দরিদ্র মানুষ, যারা তিল তিল করে টাকা জমিয়েছিলেন।
এমআরএ বর্তমানে এই জটিলতাগুলো নিরসনে আইনি কাঠামো সংস্কারের কাজ করছে। গ্রাহক যাতে কোনোভাবেই প্রতারিত না হন এবং প্রতিটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, সেজন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এই অব্যাহত কঠোর নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলেই আগামী দিনে দেশের ক্ষুদ্র ঋণ খাত আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 






















