ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলা মিডিয়ামে পড়া বাঙালিই হবেন মুখ্যমন্ত্রী: অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বড় রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি অন্তত ১১০টিতে জয়লাভ করবে। এছাড়াও, তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল হুগলির বলাগড়ে এক জনসভায় অমিত শাহ বলেন, প্রথম দফার ভোটের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট যে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি অঞ্চলেও বিজেপির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে। এই জনসভায় তিনি আরও বলেন যে, বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন একজন ব্যক্তিকেই সামনে আনা হবে যিনি বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছেন। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।

নির্বাচনী ফলের পাশাপাশি, অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্নীতির ইস্যুতেও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে এই দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও, তিনি ২৯ তারিখের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভোটারদের স্পর্শ করার চেষ্টা করলে তাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে।

অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও বিজেপি সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তার অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং গরিবদের জন্য বরাদ্দ রেশন ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত সুরক্ষাকে জোরদার করে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে এবং যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি নিশানা করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদায় জানালে রাজ্যের সিন্ডিকেট-রাজ বন্ধ হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে গুন্ডারাজ চলছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের পরেই তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্যের নির্বাচনী আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলা মিডিয়ামে পড়া বাঙালিই হবেন মুখ্যমন্ত্রী: অমিত শাহ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বড় রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি অন্তত ১১০টিতে জয়লাভ করবে। এছাড়াও, তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল হুগলির বলাগড়ে এক জনসভায় অমিত শাহ বলেন, প্রথম দফার ভোটের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট যে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি অঞ্চলেও বিজেপির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে। এই জনসভায় তিনি আরও বলেন যে, বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন একজন ব্যক্তিকেই সামনে আনা হবে যিনি বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছেন। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।

নির্বাচনী ফলের পাশাপাশি, অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্নীতির ইস্যুতেও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে এই দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও, তিনি ২৯ তারিখের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভোটারদের স্পর্শ করার চেষ্টা করলে তাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে।

অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও বিজেপি সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তার অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং গরিবদের জন্য বরাদ্দ রেশন ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত সুরক্ষাকে জোরদার করে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে এবং যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি নিশানা করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদায় জানালে রাজ্যের সিন্ডিকেট-রাজ বন্ধ হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে গুন্ডারাজ চলছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের পরেই তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্যের নির্বাচনী আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।