সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা সরকারিভাবে নির্ধারিত ধানের মূল্যের অর্ধেকও পাচ্ছেন না। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, বর্তমানে মধ্যনগরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যেসব জমিতে ধান রয়েছে, সেগুলো নিয়েও তারা চরম বেকায়দায় আছেন। অনেক হাওরে ধান আনার রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় বা অনুপযোগী হয়ে পড়ায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার খরচও বেড়েছে। পাশাপাশি, শ্রমিক সংকটের ফলে মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন খরচ প্রায় ধানের মূল্যের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় কৃষকরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও তা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যনগর হাওরাঞ্চলের একটি অন্যতম বড় ধানের আড়ৎ হিসেবে পরিচিত হলেও, সেখানে বেচাকেনার তেমন চাঞ্চল্য নেই। সংশ্লিষ্ট আড়ৎদাররা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাজার অনেকটাই স্থবির এবং ধান ক্রয়ে আগ্রহী ব্যাপারীর সংখ্যাও অনেক কম। আড়ৎ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুণ সরকার বলেন, এবার ধানের বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অতিবৃষ্টিতে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রোদ না থাকায় ধান শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের ধান পাওয়া গেলে তারা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা মণ দরে কিনছেন।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম কার্যকর না থাকায় তারা নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। এ সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে ধান কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তারা তার কাছাকাছিও পাচ্ছেন না। সময়মতো রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পারায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গুদামে ধান দিতে গেলেও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























