সরকার আগামী ৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবে, যা আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বোরো ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা, আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা এবং গম প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভা শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরকারি গুদামে ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন চাল মজুত আছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন চালের ‘নিরাপত্তা মজুত’ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই মজুত ২৪-২৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশে বার্ষিক চালের চাহিদা প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। তাই আপাতত চাল আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। তবে গমের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (৮-১০ লাখ মেট্রিক টন) চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এটি মূলত আমদানিনির্ভর। দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গমের চাহিদা মেটাতে সরকার জি-টু-জি এবং ওপেন টেন্ডার মেথডে (ওটিএম) ৮ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিকারকরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম আমদানি করতে পারবেন। মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে আতপ চালের চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























