চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপে নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়ায় স্পিডবোটের ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়ায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়েছেন। গত সোমবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় তার এই প্রস্তাবের পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ধিত ভাড়া কার্যকরের কথা বলা হয়েছে, তবে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা।
সভায় উপস্থিত সূত্রমতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুললে আলমগীর ঠাকুর ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন। তার এই অবস্থানকে সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর জানান, ভাড়া নির্ধারণের অধিকার তার নেই। প্রশাসন মতামত জানতে চাইলে তিনি যাত্রী ও ব্যবসায়ী উভয়ের স্বার্থ বিবেচনা করে ৩০০ টাকার প্রস্তাব করেন, কারণ মালিকপক্ষ ৩৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেছিল।
ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্পিডবোট চালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, জ্বালানি তেল ও বোটের যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান ভাড়ায় বোট চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, তারা যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আগ্রহী হলেও লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। তেলের দাম বাড়ায় তাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করেই একটি যৌক্তিক ভাড়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানিয়েছেন, সভায় সকল পক্ষের সম্মতিক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উন্মুক্ত আলোচনায় প্রতিনিধিদের সম্মতিতে এই প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই ভাড়াই কার্যকর থাকবে।
তবে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সন্দ্বীপের প্রায় শতাধিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট প্রকাশ হওয়ার আগে কেবল ‘উন্মুক্ত আলোচনা’র নামে ভাড়া বৃদ্ধি করার অধিকার কারো আছে কিনা। উল্লেখ্য, সারাদেশে কোথাও স্পীডবোট ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি, সেখানে শুধুমাত্র সন্দ্বীপে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 























