ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম যাতায়াত সংকট, মানসিক বিপর্যয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া অনুচিত বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, বন্যায় দেশের সাতটি জেলায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছাত্রদলের নেতারা আরও বলেন, বন্যাকবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, অনেক শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, যা তাদের পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সংকটের মধ্যে থাকলেও পরীক্ষা চালিয়ে গেলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানান ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘন: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে আরও ২ বছরের কারাদণ্ড

বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম যাতায়াত সংকট, মানসিক বিপর্যয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া অনুচিত বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, বন্যায় দেশের সাতটি জেলায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছাত্রদলের নেতারা আরও বলেন, বন্যাকবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, অনেক শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, যা তাদের পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সংকটের মধ্যে থাকলেও পরীক্ষা চালিয়ে গেলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানান ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা।