ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে উত্তাল চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস: প্রশাসন শনাক্তকরণে ব্যর্থ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় ধারালো কিরিচ ও রামদা হাতে কয়েকজনকে দেখা গেছে, যারা শিবির কর্মীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা বেলা ১২টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, পরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের মুখে আবারও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন তরুণকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে দৌঁড়াতে দেখা গেছে। তাদের মুখ আংশিকভাবে কাপড় বা মাস্কে ঢাকা ছিল, কেউ কেউ হেলমেটও পরেছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তারা দ্রুত গতিতে ক্যাম্পাসের অপর পক্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সংঘর্ষে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তবে, প্রশাসন জানিয়েছে যে ভিডিও দেখে তাদের কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে শনাক্ত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরুর পরপরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার ও করিডরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের আগমনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ছাত্রশিবিরের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন এই ঘটনাকে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছেন এবং নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে, ছাত্রদল দাবি করেছে যে ছাত্রশিবির তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গ্রাফিতির ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: পেনশনের সাথে গ্র্যাচুইটি সুবিধা

অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে উত্তাল চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস: প্রশাসন শনাক্তকরণে ব্যর্থ

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় ধারালো কিরিচ ও রামদা হাতে কয়েকজনকে দেখা গেছে, যারা শিবির কর্মীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা বেলা ১২টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, পরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের মুখে আবারও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন তরুণকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে দৌঁড়াতে দেখা গেছে। তাদের মুখ আংশিকভাবে কাপড় বা মাস্কে ঢাকা ছিল, কেউ কেউ হেলমেটও পরেছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তারা দ্রুত গতিতে ক্যাম্পাসের অপর পক্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সংঘর্ষে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তবে, প্রশাসন জানিয়েছে যে ভিডিও দেখে তাদের কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে শনাক্ত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরুর পরপরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার ও করিডরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের আগমনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ছাত্রশিবিরের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন এই ঘটনাকে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছেন এবং নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে, ছাত্রদল দাবি করেছে যে ছাত্রশিবির তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গ্রাফিতির ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।