সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত। আজ মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমন কর্মকার এই আদেশ দেন। এর আগে সমন জারি করা হলেও নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল গত ২ এপ্রিল এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে জুমার নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে আমির হামজা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে দেওয়া ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে নাস্তিক হিসেবে অভিহিত করেন। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় আইনজীবীরা দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন। শুনানি চলাকালে সংসদ চলাকালীন একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরোয়ানা জারিতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদালতকে অবহিত করা হয়। উল্লেখ্য যে, একই ঘটনায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে কেবল এই মামলাই নয়, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন যে বর্তমান জেলা প্রশাসক বদলি হয়ে আসার জন্য ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন, যার প্রেক্ষিতে তাঁকে ইতিমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী টুকুর অনুসারীরা আমির হামজাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে আদালতের এই পরোয়ানা জারির ফলে সংসদ সদস্য আমির হামজার আইনি জটিলতা আরও প্রকট হলো।
রিপোর্টারের নাম 

























