ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

তেল, সার ও শ্রমিক: ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা দেশের কৃষক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বোরো ধান কাটা এবং আউশ ও পাটের আবাদের এই সন্ধিক্ষণে ডিজেল, সার ও শ্রমিকের ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন দেশের কৃষকরা। একদিকে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা হয়েছে, অন্যদিকে চাহিদামত সার না পাওয়ায় খোলা বাজার থেকে বাড়তি দামে তা কিনতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিশাল চাহিদা থাকলেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে কৃষকদের পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের এই সময়ে জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা অভিযোগ করছেন যে, সার ও তেলের পেছনে সময় দিতে গিয়ে তারা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করতে পারছেন না। কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা ও পাট চাষিরা পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও পটাশ সার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন, যদিও কৃষি কর্মকর্তারা এই সংকটের কথা অস্বীকার করছেন। এর পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে যেখানে ১১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে, বাজারে তার চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তেলের এই উচ্চমূল্য এবং উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতা কৃষিপণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিখাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ডিজেল ও সারে ভর্তুকি বাড়ানো জরুরি। কৃষি বিভাগ ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ সহজ করার চেষ্টা করলেও মাঠের বাস্তব চিত্র এখনো পাল্টায়নি। কৃষি সচিব জানিয়েছেন যে, যান্ত্রিক সংকটের কারণে এবার শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার ওপর জোর দেওয়া হবে, তবে শ্রমিকের উচ্চ মজুরি ও স্বল্পতা কৃষকের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সার ও জ্বালানি তেলের এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে দেশের কৃষি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির ‘জ্বালা’: সংকট ও লুণ্ঠনমূলক কাঠামোর প্রভাব

তেল, সার ও শ্রমিক: ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা দেশের কৃষক

আপডেট সময় : ১২:০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বোরো ধান কাটা এবং আউশ ও পাটের আবাদের এই সন্ধিক্ষণে ডিজেল, সার ও শ্রমিকের ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন দেশের কৃষকরা। একদিকে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা হয়েছে, অন্যদিকে চাহিদামত সার না পাওয়ায় খোলা বাজার থেকে বাড়তি দামে তা কিনতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিশাল চাহিদা থাকলেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে কৃষকদের পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের এই সময়ে জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা অভিযোগ করছেন যে, সার ও তেলের পেছনে সময় দিতে গিয়ে তারা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করতে পারছেন না। কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা ও পাট চাষিরা পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও পটাশ সার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন, যদিও কৃষি কর্মকর্তারা এই সংকটের কথা অস্বীকার করছেন। এর পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে যেখানে ১১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে, বাজারে তার চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তেলের এই উচ্চমূল্য এবং উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতা কৃষিপণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিখাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ডিজেল ও সারে ভর্তুকি বাড়ানো জরুরি। কৃষি বিভাগ ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ সহজ করার চেষ্টা করলেও মাঠের বাস্তব চিত্র এখনো পাল্টায়নি। কৃষি সচিব জানিয়েছেন যে, যান্ত্রিক সংকটের কারণে এবার শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার ওপর জোর দেওয়া হবে, তবে শ্রমিকের উচ্চ মজুরি ও স্বল্পতা কৃষকের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সার ও জ্বালানি তেলের এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে দেশের কৃষি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।