কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র এক সপ্তাহ পরেই আবার দখলদারদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে ফের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় বিশৃঙ্খলা ও যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, চলতি মাসের শুরুতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ অভিযান চালিয়ে নিমসার বাজার এলাকার মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। যদিও সেই উচ্ছেদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর হলেও জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান অক্ষত ছিল। উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী।
অভিযানের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রভাবশালী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট পুনরায় দখল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নিমসার বাজার এলাকার সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় ফের দোকানপাট ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে মহাসড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উচ্ছেদ অভিযানটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। অভিযান শেষ হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই আগের দখলদাররা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেছে। তাদের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণেই এসব অবৈধ কার্যক্রম বারবার ফিরে আসে।
নিমসার বাজারের ইজারাদার এবং বুড়িচং উপজেলা মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, যারা আগে দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছিল তারাই আবার নতুন করে এখন দোকানপাট নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে, আমরা কী বলব।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না কারা দখল করেছে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আগের দখলদাররাই আবার জায়গা দখল করেছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু উচ্ছেদ অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং শক্ত নজরদারি, আইনগত ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
রিপোর্টারের নাম 
























