ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই মিলছে তিন বেলা খাবার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মহেশপুর উপজেলার বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে একটি ছোট মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনন্য রেস্তোরাঁ, যেখানে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে তিন বেলা খাবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এখানে লাভ-লোকসানের কোনো হিসাব নেই, কেবল মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই মুখ্য উদ্দেশ্য।

আব্দুল মজিদ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি তার নিজের জমিতে একটি সাধারণ মসজিদ নির্মাণ করেছেন। মসজিদের পাশেই খোলা আকাশের নিচে বাঁশের চাটাইয়ের উপর তিনি এই ‘মানবতার হোটেল’ গড়ে তুলেছেন। যারা টাকা দিতে অপারগ, তাদের জন্য খাবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আর যারা সামর্থ্য অনুযায়ী দিতে পারেন, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এই হোটেলে মাত্র ৩০ টাকায় আনলিমিটেড খিচুড়ি ও ডিম ভাজি, ৪০ টাকায় মাংসসহ খিচুড়ি এবং ৭০ টাকায় বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় গরু বা পোলট্রির মাংসও পরিবেশন করা হয়। পথচারী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এখানে খাবার দেওয়া হয় বিনা খরচে।

উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ মণ্ডল প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজ হাতে রান্না করা থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও নিজেই করেন। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও, সুস্থ হয়ে ফিরে এসে আরো দৃঢ় মনোবলে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তার বিশ্বাস, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তাকে নতুন জীবন দিয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, আব্দুল মজিদ মণ্ডলের এই উদ্যোগ শুধু একটি দৃষ্টান্তই নয়, বরং এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। গ্রামের একজন মোয়াজ্জেম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মসজিদে বিনামূল্যে ইমামতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে গ্রামবাসীও তার এই মহৎ কাজে সহযোগিতা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগর বাউলের লাইনআপে পরিবর্তন: রানা বিদায় নিলেন, যোগ দিলেন এলিন

মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই মিলছে তিন বেলা খাবার

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মহেশপুর উপজেলার বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে একটি ছোট মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনন্য রেস্তোরাঁ, যেখানে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে তিন বেলা খাবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এখানে লাভ-লোকসানের কোনো হিসাব নেই, কেবল মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই মুখ্য উদ্দেশ্য।

আব্দুল মজিদ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি তার নিজের জমিতে একটি সাধারণ মসজিদ নির্মাণ করেছেন। মসজিদের পাশেই খোলা আকাশের নিচে বাঁশের চাটাইয়ের উপর তিনি এই ‘মানবতার হোটেল’ গড়ে তুলেছেন। যারা টাকা দিতে অপারগ, তাদের জন্য খাবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আর যারা সামর্থ্য অনুযায়ী দিতে পারেন, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এই হোটেলে মাত্র ৩০ টাকায় আনলিমিটেড খিচুড়ি ও ডিম ভাজি, ৪০ টাকায় মাংসসহ খিচুড়ি এবং ৭০ টাকায় বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় গরু বা পোলট্রির মাংসও পরিবেশন করা হয়। পথচারী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এখানে খাবার দেওয়া হয় বিনা খরচে।

উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ মণ্ডল প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজ হাতে রান্না করা থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও নিজেই করেন। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও, সুস্থ হয়ে ফিরে এসে আরো দৃঢ় মনোবলে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তার বিশ্বাস, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তাকে নতুন জীবন দিয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, আব্দুল মজিদ মণ্ডলের এই উদ্যোগ শুধু একটি দৃষ্টান্তই নয়, বরং এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। গ্রামের একজন মোয়াজ্জেম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মসজিদে বিনামূল্যে ইমামতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে গ্রামবাসীও তার এই মহৎ কাজে সহযোগিতা করছেন।