ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষি সেচ, শিল্প উৎপাদন এবং গণপরিবহন খাতে সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষরা এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ এবং আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামলাতে সরকার দাম বাড়াতে ‘নিরুপায়’ ছিল। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক অভিঘাত অনেক গভীর হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, বাজারে ইতিমধ্যে পরোক্ষ প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, ডিজেলকে এই মূল্যবৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখা গেলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমত। এখন সবচেয়ে বড় ভীতি হলো—জ্বালানির উসিলায় ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ান।
ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো যেমন বিজিএমইএ এবং কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তেলের দাম বাড়লে রপ্তানি পণ্য এবং হিমাগার ব্যবস্থাপনার খরচ বেড়ে যাবে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাকে কঠিন করবে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি মজুতদারদের উৎসাহিত করতে পারে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পণ্য ও সেবার মূল্য যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে না যায়, সেজন্য সরকারকে কঠোর বাজার মনিটরিং এবং পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায়, সরবরাহ সংকটের মাঝে এই মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলে দিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























