ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের জট

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি সংকটের কারণে লাইটার জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিদেশি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বন্দর কেন্দ্র করে যেখানে এক হাজার ২০০ লাইটার জাহাজ চলাচল করত, জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। হাতেগোনা যে কয়েকটি লাইটার জাহাজ সচল রয়েছে, সেগুলোও কেবল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াত করতে সক্ষম হচ্ছে; দূরের নৌরুটগুলোতে তাদের দেখা মিলছে না বললেই চলে।

গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ জ্বালানি সংকটে অচল হয়ে পড়েছে। বড় কোম্পানি বা প্রভাবশালী মালিকদের জাহাজগুলো হয়তো কিছুটা তেল জোগাড় করতে পারছে, কিন্তু ছোট ও মাঝারি আকারের লাইটারগুলো কার্যত বন্ধ। এর ফলে বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেলগুলো থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ঠিক সময়ে পণ্য আনলোড করতে না পারায় আমদানিকারকদের প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ভরা জোয়ারের সময় বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯-১০ মিটার ড্রাফট থাকে, যা বড় জাহাজগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়। তাই গভীর সাগর বা বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেলগুলো থেকে ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। সাধারণত গম, ভুট্টা, চাল, খাদ্যপণ্য, কয়লা, সার, সিমেন্ট ক্লিংকার, চিনি এবং লোহার স্ক্র্যাপের মতো বাল্কপণ্য এভাবে খালাস করা হয়। বছরে প্রায় ১২ কোটি টন বাল্কপণ্য বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা পরিবহনের জন্য প্রতি মাসে ৪০০-৪২০ লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আনা কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা বহনকারী তিনটি মাদার ভেসেল বর্তমানে অলসভাবে ভাসছে। লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে এই কয়লা খালাস করা যাচ্ছে না। মাদার ভেসেলগুলো অলস দাঁড়িয়ে থাকায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন জাহাজপ্রতি ১৫-২৫ হাজার ডলার ডেমারেজ চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া পৌরসভা পেল সিটি করপোরেশনের মর্যাদা: ১৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের জট

আপডেট সময় : ০৯:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি সংকটের কারণে লাইটার জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিদেশি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বন্দর কেন্দ্র করে যেখানে এক হাজার ২০০ লাইটার জাহাজ চলাচল করত, জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। হাতেগোনা যে কয়েকটি লাইটার জাহাজ সচল রয়েছে, সেগুলোও কেবল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াত করতে সক্ষম হচ্ছে; দূরের নৌরুটগুলোতে তাদের দেখা মিলছে না বললেই চলে।

গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ জ্বালানি সংকটে অচল হয়ে পড়েছে। বড় কোম্পানি বা প্রভাবশালী মালিকদের জাহাজগুলো হয়তো কিছুটা তেল জোগাড় করতে পারছে, কিন্তু ছোট ও মাঝারি আকারের লাইটারগুলো কার্যত বন্ধ। এর ফলে বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেলগুলো থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ঠিক সময়ে পণ্য আনলোড করতে না পারায় আমদানিকারকদের প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ভরা জোয়ারের সময় বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯-১০ মিটার ড্রাফট থাকে, যা বড় জাহাজগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়। তাই গভীর সাগর বা বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেলগুলো থেকে ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। সাধারণত গম, ভুট্টা, চাল, খাদ্যপণ্য, কয়লা, সার, সিমেন্ট ক্লিংকার, চিনি এবং লোহার স্ক্র্যাপের মতো বাল্কপণ্য এভাবে খালাস করা হয়। বছরে প্রায় ১২ কোটি টন বাল্কপণ্য বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে হ্যান্ডলিং করা হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা পরিবহনের জন্য প্রতি মাসে ৪০০-৪২০ লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আনা কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা বহনকারী তিনটি মাদার ভেসেল বর্তমানে অলসভাবে ভাসছে। লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে এই কয়লা খালাস করা যাচ্ছে না। মাদার ভেসেলগুলো অলস দাঁড়িয়ে থাকায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন জাহাজপ্রতি ১৫-২৫ হাজার ডলার ডেমারেজ চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।