সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রভাবের জেরে সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা শনিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।
তেলের দাম বাড়ায় জনজীবনে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা। তাদের অভিযোগ, তেলের দাম আরও কিছুটা কম বাড়ানো উচিত ছিল। দাম বৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।
রাজধানীর আসাদ গেট, তেজগাঁও এবং পরীবাগের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতোই রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনতে আসা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের অভিযোগ, রাত থেকে অপেক্ষা করেও তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে তেল পাচ্ছেন না। অনেক পাম্পেই নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
বাংলাদেশে গত দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট চলছে। এতদিন জেট ফুয়েল ছাড়া অন্য জ্বালানির দাম না বাড়ালেও, শেষ পর্যন্ত সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করায় তারা সরকারকে সাধুবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট বা মজুদ করার প্রবণতা কমবে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আসবে। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ করলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ন্যায্যভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল, যা মার্চ ও এপ্রিল মাসেও বহাল ছিল।
রিপোর্টারের নাম 























