ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

শ্রীপুরে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রী উদ্ধার, ৭ জন গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৬) অপহরণের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে মূল আসামি ও তার কয়েকজন সহযোগী এখনো পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ওই ছাত্রী অপহরণের শিকার হন। শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো. আবিদ (২১) তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের পর ১৫ এপ্রিল সকালে আবিদ ভিকটিমকে তার পিতার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। একই দিন বেলা প্রায় ১১টার দিকে আসামি ও তার সহযোগীরা পুনরায় ভিকটিমকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভিকটিমের স্বজনদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা হাদিউল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি আবিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের নির্দেশে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ও শ্রীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে এজাহারভুক্ত ২ জনসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুরের এমসি বাজার এলাকা থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় প্রধান আসামি আবিদসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ছেলে ও ভিকটিমের মধ্যে পূর্বপরিচয় বা সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের দুয়ার উন্মোচন: এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের ঐতিহাসিক চুক্তি

শ্রীপুরে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রী উদ্ধার, ৭ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৬) অপহরণের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে মূল আসামি ও তার কয়েকজন সহযোগী এখনো পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ওই ছাত্রী অপহরণের শিকার হন। শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো. আবিদ (২১) তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের পর ১৫ এপ্রিল সকালে আবিদ ভিকটিমকে তার পিতার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। একই দিন বেলা প্রায় ১১টার দিকে আসামি ও তার সহযোগীরা পুনরায় ভিকটিমকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভিকটিমের স্বজনদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা হাদিউল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি আবিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের নির্দেশে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ও শ্রীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে এজাহারভুক্ত ২ জনসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুরের এমসি বাজার এলাকা থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় প্রধান আসামি আবিদসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ছেলে ও ভিকটিমের মধ্যে পূর্বপরিচয় বা সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।