বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি আল মাহমুদের প্রয়াণ সংবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু স্মৃতির জানালায় দ্রুতই ভেসে ওঠে গুলশানের সেই বিকেলে তার সান্নিধ্যে কাটানো সময়গুলো। কিছু মানুষ থাকেন যাদের দৈহিক অনুপস্থিতি থাকলেও তাদের সৃষ্টির সুবাস চারপাশকে সব সময় সুরভিত করে রাখে। আল মাহমুদ ছিলেন তেমনই একজন, যার সঙ্গে পরিচয় হওয়া মানেই ছিল সাহিত্যের এক দুর্গম পাহাড়ি ঝরনার দেখা পাওয়া।
ব্যক্তিগতভাবে এই কবির কাছে আমার ঋণের শেষ নেই। ২০০৭ সাল থেকে প্রায়ান্ধ এই কবির সাপ্তাহিক কলাম ‘সাহসের সমাচার’ অনুলিখনের দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছিল আমার। দীর্ঘ সময় তার খুব কাছে থেকে কাজ করার সুবাদে তাকে জানার ও বোঝার সুযোগ হয়েছে। তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন যে, কবিত্ব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, বরং এটি এক সহজাত ক্ষমতা যা সবার থাকে না।
তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, লেখালেখি কত কঠিন একটি সাধনা। তিনি প্রায়ই বলতেন, লেখা কোনো তরল পদার্থ নয় যে চাইলেই চুইয়ে পড়বে। তার প্রতিটি শব্দ উচ্চারণে এক অদৃশ্য জগতের মায়া তৈরি হতো, যা অনুলিখনের ক্লান্তি দূর করে দিত। ‘সোনালী কাবিন’ কিংবা ‘কালের কলস’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টির স্রষ্টা আল মাহমুদ তার কর্মের মাধ্যমেই বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
রিপোর্টারের নাম 

























