বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ সরকারি তহবিল থেকে পরিশোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের মোট ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের হয়রানি রোধে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ঋণ মওকুফের এই প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তের অধীনে পরিচালিত হবে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে অনারোপিত সুদ মওকুফ করবে এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে কোনো মামলা থাকলে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ঋণের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করবে এবং সেই চূড়ান্ত হিসাবের ভিত্তিতেই সরকার ব্যাংকগুলোর পাওনা পরিশোধ করবে। প্রতি মাসে মামলা প্রত্যাহারের অগ্রগতি প্রতিবেদন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যদি কোনো ব্যাংক প্রকৃত পাওনার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে, তবে তা সুদে-আসলে ফেরত দিতে তারা বাধ্য থাকবে। সরকারি সকল আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে এই ঋণ মওকুফ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক কৃষকদের ওপর থেকে ঋণের চাপ কমে আসার পাশাপাশি তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন।
রিপোর্টারের নাম 






















