ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায়: যে কারণে লতার সাথে দূরত্ব

কিংবদন্তি ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে, যিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করে সংগীতাঙ্গনে নিজের এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নানা ঘটনাপ্রবাহে পূর্ণ। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল খবরের শিরোনামে, যা কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়।

বাবার অকাল মৃত্যুর পর বড় বোন লতা মঙ্গেশকর যখন মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তখন আশার বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। লতা চেয়েছিলেন আশা যেন তাঁর মতো সংসারের হাল ধরেন, কিন্তু আশা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি কোনো নিয়ম বা বিধিনিষেধ মেনে চলতে পছন্দ করতেন না এবং নিজের জন্য একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে, আশার চেয়ে প্রায় ১৫ বছরের বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। গণপতরাও ছিলেন লতা মঙ্গেশকরের সচিব এবং তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। সেখানেই আশা ও গণপতরাও একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং পালিয়ে বিয়ে করেন। এই বিয়ে নিয়ে লতা মঙ্গেশকর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, এই সম্পর্কের কারণে তাঁর সঙ্গে লতাজির দীর্ঘদিনের জন্য কথা বন্ধ ছিল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তাঁর থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন।

সূত্র মতে, শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক হিংসার শিকার হওয়ার পর আশা ভোঁসলে এবং গণপতরাও ভোঁসলের মধ্যে সম্পর্কের অবসান ঘটে এবং তাঁরা ১৯৬০ সালে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর, ১৯৮০ সালে আশা ভোঁসলে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করেন, যিনি তাঁর চেয়ে চার বছরের ছোট ছিলেন। এই বিয়ে নিয়েও সেই সময় কম বিতর্ক হয়নি। আশা ভোঁসলের প্রথম পক্ষের তিনটি সন্তানের মধ্যে হেমন্ত (২০১৫) এবং বর্ষা (২০১২) ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী রাহুল দেব বর্মন ১৯৯৪ সালে মারা যান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায়: যে কারণে লতার সাথে দূরত্ব

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কিংবদন্তি ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে, যিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করে সংগীতাঙ্গনে নিজের এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নানা ঘটনাপ্রবাহে পূর্ণ। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল খবরের শিরোনামে, যা কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়।

বাবার অকাল মৃত্যুর পর বড় বোন লতা মঙ্গেশকর যখন মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তখন আশার বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। লতা চেয়েছিলেন আশা যেন তাঁর মতো সংসারের হাল ধরেন, কিন্তু আশা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি কোনো নিয়ম বা বিধিনিষেধ মেনে চলতে পছন্দ করতেন না এবং নিজের জন্য একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে, আশার চেয়ে প্রায় ১৫ বছরের বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। গণপতরাও ছিলেন লতা মঙ্গেশকরের সচিব এবং তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। সেখানেই আশা ও গণপতরাও একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং পালিয়ে বিয়ে করেন। এই বিয়ে নিয়ে লতা মঙ্গেশকর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, এই সম্পর্কের কারণে তাঁর সঙ্গে লতাজির দীর্ঘদিনের জন্য কথা বন্ধ ছিল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তাঁর থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন।

সূত্র মতে, শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক হিংসার শিকার হওয়ার পর আশা ভোঁসলে এবং গণপতরাও ভোঁসলের মধ্যে সম্পর্কের অবসান ঘটে এবং তাঁরা ১৯৬০ সালে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর, ১৯৮০ সালে আশা ভোঁসলে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করেন, যিনি তাঁর চেয়ে চার বছরের ছোট ছিলেন। এই বিয়ে নিয়েও সেই সময় কম বিতর্ক হয়নি। আশা ভোঁসলের প্রথম পক্ষের তিনটি সন্তানের মধ্যে হেমন্ত (২০১৫) এবং বর্ষা (২০১২) ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী রাহুল দেব বর্মন ১৯৯৪ সালে মারা যান।