ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বাজেটে বিশেষ সুবিধা: ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করা যাবে কালো টাকা

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত রেখেছে। গত সরকারের আমলের মতোই অনেকটা সহজ শর্তে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে সেই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

তবে একটি বিশেষ শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তির অপ্রদর্শিত আয় সরকারিভাবে শনাক্ত হওয়ার আগে তিনি নিজে থেকে ঘোষণা না দেন এবং পরে তা ধরা পড়ে, তবে তাকে নিয়মিত করের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা কালো টাকা সাদা করার এই সুযোগ বন্ধের দাবি জানালেও শেষ পর্যন্ত তা বাজেটে বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। পাস হলে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধানের আওতায় আগামী এক বছর জমি ও আবাসন খাতে এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন করদাতারা।

অর্থবিলের বিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস নিয়ে কোনো ধরনের তদন্ত বা আইনি প্রশ্ন তোলা যাবে না। এছাড়া জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের চেয়ে প্রকৃত মূল্য বেশি হলে, অতিরিক্ত সেই অর্থকেও নিয়মিত আয়কর হারে কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন বিক্রেতারাও, যারা বিক্রয়লব্ধ অতিরিক্ত অর্থের ওপর মূলধনী মুনাফা হিসেবে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানালো মিশর

বাজেটে বিশেষ সুবিধা: ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করা যাবে কালো টাকা

আপডেট সময় : ১১:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অব্যাহত রেখেছে। গত সরকারের আমলের মতোই অনেকটা সহজ শর্তে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে সেই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

তবে একটি বিশেষ শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তির অপ্রদর্শিত আয় সরকারিভাবে শনাক্ত হওয়ার আগে তিনি নিজে থেকে ঘোষণা না দেন এবং পরে তা ধরা পড়ে, তবে তাকে নিয়মিত করের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা কালো টাকা সাদা করার এই সুযোগ বন্ধের দাবি জানালেও শেষ পর্যন্ত তা বাজেটে বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। পাস হলে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধানের আওতায় আগামী এক বছর জমি ও আবাসন খাতে এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন করদাতারা।

অর্থবিলের বিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস নিয়ে কোনো ধরনের তদন্ত বা আইনি প্রশ্ন তোলা যাবে না। এছাড়া জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের চেয়ে প্রকৃত মূল্য বেশি হলে, অতিরিক্ত সেই অর্থকেও নিয়মিত আয়কর হারে কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন বিক্রেতারাও, যারা বিক্রয়লব্ধ অতিরিক্ত অর্থের ওপর মূলধনী মুনাফা হিসেবে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন।