ইরানের সভ্যতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিহ্ন করার হুমকির মধ্যেই ইসরাইলিরা গত মঙ্গলবার রাতে ঘুমাতে যায়। কিন্তু মাঝরাতে উঠে তারা খবর পায়, হুমকি দেওয়া ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো ১০ দফা প্রস্তাবের প্রচার করে। ইরানের মতে, এই ১০ দফার ভিত্তিতেই যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মতি দিয়েছে।
দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে— উভয় পক্ষের মধ্যে বৈরিতার সম্পূর্ণ অবসান করা, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, ইরানের মিত্রদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা প্রতিটি নৌযান থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করা।
যদি এসব দফার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়, তবে এতেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হতে পারে। গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু অনেকটাই একাকী অবস্থাতেই ট্রাম্পকে ইরান আগ্রাসনের সঙ্গে জড়ান। এখন যদি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কোনো চুক্তি হয়, তাহলে তা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভিত্তিতেই আঘাত করবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ১০ দফা মেনে নেয়, তাহলে আগের চেয়ে ইরান আরো শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হবে। যে পরিকল্পনা থেকে নেতানিয়াহু ২৮ ফেব্রুয়ারি আগ্রাসন শুরু করেছিলেন, তার সঙ্গে এ ১০ দফা সাংঘর্ষিক।
ইরানে আগ্রাসনের শুরুতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পতন ঘটানো। তবে আগ্রাসনের মুখে যখন ইরান শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন যুদ্ধের লক্ষ্য থেকে ক্রমেই দূরে সরে যেতে থাকেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে ইরানে ক্ষমতাসীনদের পতন না হলেও নেতানিয়াহু অন্তত তেহরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বড় কোনো শক্তি হয়ে না ওঠে। নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে; কিন্তু তাও এখনো বাস্তব হয়নি। ইরানের ক্ষমতাসীনরাই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করছে। দেশটি তার ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং আবারও পরমাণু প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেও
রিপোর্টারের নাম 























