বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা জল্পনা-কল্পনা ও ভবিষ্যদ্বাণী। গত তিনটি বিশ্বকাপে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ত। পেশায় শেয়ারবাজার বিশ্লেষক এই অর্থনীতিবিদ মূলত একটি গাণিতিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে তার ফুটবল পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন।
তবে চলমান বিশ্বকাপে তার সেই বহুল চর্চিত গাণিতিক মডেল একদিনেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। জাপানের কাছে ব্রাজিলের হারার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ক্লেমেন্ত, কিন্তু খেলার মাঠে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। যদিও এই ম্যাচে চোট বা কৌশলগত কারণে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র মাঠে নামেননি। একই দিনে ক্লেমেন্তের ফেভারিট দল নেদারল্যান্ডসও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
ক্লেমেন্তের এই জোড়া ব্যর্থতার পর ব্রাজিল তারকা নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাকে খোঁচা মেরে লেখেন, ‘জোয়াকিম ক্লেমেন্তে, দয়া করে আগামী বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।’ নেদারল্যান্ডসের হারের পর নেইমার আরেকটি পোস্টে স্রেফ লেখেন, ‘আবারও ভুল।’
এই ঘটনা প্রমাণ করে, নিখুঁত গাণিতিক সমীকরণ দিয়ে আর যা-ই হোক, মাঠের ফুটবলীয় রোমাঞ্চ আর অনিশ্চয়তাকে সব সময় বাঁধা সম্ভব নয়। জোয়াকিম ক্লেমেন্তের পূর্বাভাসের মূল ভিত্তি হলো তার তৈরি করা চার স্তম্ভের একটি গাণিতিক মডেল। এই মডেলের প্রথম শর্ত হলো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি—যা উন্নত ফুটবল অবকাঠামো ও যুব উন্নয়নে বিনিয়োগের সক্ষমতা নির্দেশ করে। দ্বিতীয়টি হলো জনসংখ্যা, যা প্রতিভা খোঁজার পরিধি বাড়ায়। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো তাপমাত্রা। ক্লেমেন্তের মতে, ফুটবল খেলার জন্য আদর্শ গড় তাপমাত্রা হলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মূলত ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা যায়। আর চতুর্থ বিষয়টি হলো মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতি, যা দলের জয়ে মানসিক বুস্ট হিসেবে কাজ করে।
রিপোর্টারের নাম 
















