ফিলিস্তিনের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই লড়াই কেবল দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধেও। এক শতাব্দী আগে থেকেই সাধারণ ফিলিস্তিনি কৃষক ও শ্রমিকরা যখন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন, তখন অভিজাত শ্রেণির একটি বড় অংশ নিজেদের সুযোগ-সুবিধা রক্ষায় ঔপনিবেশিক শক্তি ও জায়নবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপস করেছে। এই ঐতিহাসিক ধারা আজও বর্তমান ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দৃশ্যমান।
বিশ শতকের শুরুতে জেরুজালেম ও জাফার প্রভাবশালী পরিবারগুলো ব্রিটিশ ও জায়নবাদী শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখত। তারা মনে করত, আন্দোলনের চেয়ে সমঝোতার মাধ্যমেই নিজেদের প্রভাব ধরে রাখা সম্ভব। এই অভিজাতরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গঠন করলেও সাধারণ জনগণের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়। বিপরীতে, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধকেই মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেয়।
বর্তমানে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা যখন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন, তখন অভিজাত শ্রেণির নির্লিপ্ততা ও স্বার্থবাদী রাজনীতি মুক্তি আন্দোলনকে আরও জটিল করে তুলছে। ফিলিস্তিনের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনে এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সুবিধাবাদী মানসিকতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 
























