নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের জামফারা প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ব্যান্ডিট’-এর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। জামফারা উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য নাইজেরিয়ার একটি অঞ্চল, যেখানে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে হামলা, অপহরণ ও লুটপাট চালিয়ে আসছে।
স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার বুখ্কুয়ুম জেলার বুনকাসাউ গ্রামে প্রায় ৮০টি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েক ডজন বন্দুকধারী হামলা চালায়। গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। জামফারা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ইয়াজিদ আবুবকর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানাননি, তবে জানিয়েছেন তদন্ত চলছে।
তবে স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। বুখ্কুয়ুম এলাকার এক কমিউনিটি নেতা লাওয়ালি উমর বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে ২১ জনকে হত্যা করেছে ব্যান্ডিটরা।’ তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যান্ডিটদের চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীরা এবার তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র কেনে। আরেক বাসিন্দা জামিলু আলিয়ুও একই সংখ্যক নিহতের কথা নিশ্চিত করেছেন। পাশের ইয়াশি গ্রামের বাবুগা আহমাদ জানান, গ্রামবাসীদের গুলি শেষ হয়ে গেলে বন্দুকধারীরা আরও ভয়াবহ হামলা চালায়। এই ঘটনায় পাঠানো ছবিতে রক্তাক্ত মেঝেতে সারিবদ্ধভাবে পড়ে থাকা বহু তরুণের লাশ দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ায় এই ধরনের সহিংসতা প্রথমে পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে পানি ও জমি নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হলেও পরে তা সংগঠিত গবাদিপশু চুরি ও অপহরণ চক্রে রূপ নেয়। ২০১৫ সাল থেকে সরকার সেখানে সেনা মোতায়েন করলেও সহিংসতা থামেনি। বিভিন্ন সময় শান্তিচুক্তি ও সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বারবার সহিংসতায় ফিরে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























