বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে একটি কুমিরের মুখে কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং উপস্থিত মানুষের চরম উদাসীনতার ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনের তারকারা তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। গত বুধবার বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে, যেখানে একটি অসুস্থ কুকুর কুমিরের কবলে পড়লেও কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুকুরটি তাড়ানোর সময় দিঘির পানিতে পড়ে গেলে মুহূর্তেই একটি কুমির সেটিকে টেনে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিনোদন জগতের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা।
এই নির্মমতায় সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন যে, একটি প্রাণীকে স্রেফ কনটেন্ট বানানো বা বিনোদনের খোরাক হতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম মানুষের বিবেকহীনতাকে ধিক্কার জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, মানুষের প্রতি কুকুরের যে চিরন্তন বিশ্বাস, তা আজ ভেঙে গেছে। অন্যদিকে মিষ্টি জান্নাত এই ঘটনার ভিডিও পুরোটা দেখার সাহস পাননি উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিপদে পড়া প্রাণীর আর্তনাদ উপেক্ষা করে ভিডিও ধারণ করা কি আমাদের উন্নতির লক্ষণ? তিনি মানুষের চেয়ে মানবিক হওয়ার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে শুধু অভিনেত্রীরাই নন, অভিনেতা ও নির্মাতারাও তাদের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ সমাজে মানুষের চেয়ে ‘অমানুষের’ সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে দেশের উন্নয়নের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গায়ক তানজীব সারোয়ার লিখেছেন যে, কুমিরের কোনো দোষ নেই, কারণ এটি তার প্রকৃতি; কিন্তু মানুষের এই আচরণ মনুষ্যত্বের অপমান। এছাড়া অভিনেতা নিলয় আলমগীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং নির্মাতা অং রাখাইন জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বাগেরহাটের এই ঘটনাটি স্রেফ একটি প্রাণীর মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি সমাজের ক্ষয়িষ্ণু মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার অভাবকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে। তারকারা একযোগে এই পৈশাচিক আচরণের নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও মোবাইলের যুগে আমরা যেন আমাদের মনুষ্যত্ব ও দয়া হারিয়ে না ফেলি। আর্তনাদ করা একটি প্রাণের প্রতি মানুষের এমন নির্বিকার মনোভাব আগামী প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। এই ঘটনার বিচার ও প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান এখন সর্বত্র।
রিপোর্টারের নাম 

























