দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশ করে এক ভিন্নধর্মী চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। উনিশ বছর আগের সচিবালয়ের তুলনায় বর্তমানের প্রশাসনিক এই কেন্দ্রবিন্দুতে জনসমাগম ও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত গাড়ির মহাসমারোহে। আগে যেখানে সরকারি কর্মকর্তারা দলগতভাবে যাতায়াত করতেন, বর্তমানে প্রায় প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনিক এই বিবর্তনকে অনেকে আমলাতন্ত্রের বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণির উত্থান হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দশকে দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সূচকে নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও আমলাতন্ত্রের সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব বহুগুণ বেড়েছে। সচিবালয়ের বর্তমান চিত্রটি যেন রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গাড়ি পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে, যা কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান সচ্ছলতা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঐতিহাসিকদের মতে, যেকোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার জন্য একটি অনুগত এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজন হয়। সচিবালয়ের এই আমূল পরিবর্তন কেবল অবকাঠামোগত নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শনের গভীর পরিবর্তনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















