ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

হামের প্রকোপ রুখতে বড় পদক্ষেপ: ঢাকা ও চার সিটিতে বিশেষ টিকাদান শুরু আজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশে হামের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় একযোগে এই হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। মূলত যেসব মহানগরী ও এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই চার মহানগরীর ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ এই লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণের হার পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই মহানগরীগুলোতে দ্রুত টিকাদান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এমআর টিকাদান শুরু হয়েছিল। এবারের কর্মসূচির বিশেষত্ব হলো, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকেই এমআর টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো শিশু যদি পূর্বে এই টিকা দিয়েও থাকে, তবুও চলমান ক্যাম্পেইনের আওতায় তাকে আবারও টিকা দেওয়া যাবে, যা শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও সুসংহত করবে।

বর্তমানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রগুলোতে এই কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট বয়সের সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিলে সংসদের সিলমোহর: রাজপথে নয়, লড়াই এবার উচ্চ আদালতে?

হামের প্রকোপ রুখতে বড় পদক্ষেপ: ঢাকা ও চার সিটিতে বিশেষ টিকাদান শুরু আজ

আপডেট সময় : ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে হামের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় একযোগে এই হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। মূলত যেসব মহানগরী ও এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই চার মহানগরীর ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ এই লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণের হার পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই মহানগরীগুলোতে দ্রুত টিকাদান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এমআর টিকাদান শুরু হয়েছিল। এবারের কর্মসূচির বিশেষত্ব হলো, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকেই এমআর টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো শিশু যদি পূর্বে এই টিকা দিয়েও থাকে, তবুও চলমান ক্যাম্পেইনের আওতায় তাকে আবারও টিকা দেওয়া যাবে, যা শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও সুসংহত করবে।

বর্তমানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রগুলোতে এই কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট বয়সের সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।