গণভবন ও ‘আয়নাঘর’ খ্যাত স্থাপনাগুলোকে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। তবে এই বিল পাসকে কেন্দ্র করে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিরোধী দল সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। মূলত জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব বিশেষজ্ঞের হাত থেকে মন্ত্রীর হাতে চলে যাওয়ার বিষয়টি ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত।
পূর্ববর্তী অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার বিধান ছিল শিক্ষা, ইতিহাস বা সংস্কৃতি খাতের কোনো প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞের। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এখন থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদাধিকার বলে এই পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিবর্তনের ফলে বর্তমান পর্ষদ সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার পদ হারাতে যাচ্ছেন। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সাথে সাথেই নতুন নেতৃত্ব কার্যকর হবে।
সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল অধ্যাদেশটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু পাস করার। কিন্তু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে সংশোধনী প্রস্তাব আসায় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হওয়ায় বিরোধী দল এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিরোধী সংসদ সদস্যদের দাবি, এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাদুঘরের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করে একে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকার পক্ষ মনে করছে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















