ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতি মামুনুল হকের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বিএনপিকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি তৈরি করেছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রাঙ্গণে ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার দ্বিতীয় পর্বে তিনি এ আহ্বান জানান। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।

আলোচনায় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকারি দল (মূল নিউজে বিএনপি লেখা থাকলেও, আলোচনার প্রেক্ষাপটে এটি ক্ষমতাসীন দল বা আলোচকদের সমালোচিত রাজনৈতিক ধারাকে নির্দেশ করে) গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জনমতকে অস্বীকার করে, তাহলে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্গঠনে জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করলে তা গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সংবিধান কেবল আইনের কাঠামো নয়, এর একটি মৌলিক চেতনাও রয়েছে। সেই চেতনাকে উপেক্ষা করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণভোট ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বিএনপির দ্বৈত অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় প্রস্তাবিত আপার হাউস ও কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের মতো উদ্যোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে।

অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম তার বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান ‘সংশোধন’ নয়, বরং ‘সংস্কার’ জরুরি। তার মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা একটি ‘ফ্যাসিস্ট চক্র’ তৈরি করছে, যা ভাঙতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পিকারের ‘শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্য: সংসদে বৈষম্যের অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতি মামুনুল হকের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বিএনপিকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি তৈরি করেছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রাঙ্গণে ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার দ্বিতীয় পর্বে তিনি এ আহ্বান জানান। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।

আলোচনায় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকারি দল (মূল নিউজে বিএনপি লেখা থাকলেও, আলোচনার প্রেক্ষাপটে এটি ক্ষমতাসীন দল বা আলোচকদের সমালোচিত রাজনৈতিক ধারাকে নির্দেশ করে) গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জনমতকে অস্বীকার করে, তাহলে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্গঠনে জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করলে তা গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সংবিধান কেবল আইনের কাঠামো নয়, এর একটি মৌলিক চেতনাও রয়েছে। সেই চেতনাকে উপেক্ষা করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণভোট ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বিএনপির দ্বৈত অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় প্রস্তাবিত আপার হাউস ও কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের মতো উদ্যোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে।

অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম তার বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান ‘সংশোধন’ নয়, বরং ‘সংস্কার’ জরুরি। তার মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা একটি ‘ফ্যাসিস্ট চক্র’ তৈরি করছে, যা ভাঙতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।