ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

স্পিকারের ‘শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্য: সংসদে বৈষম্যের অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের কড়া অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে সদস্যদের মধ্যে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, একই বিষয়ে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেলেও তাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন বা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে, যা তার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অন্যায্য।

সংসদে গত শুক্রবার ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ নিয়ে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে হাসনাত আবদুল্লাহ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট।” স্পিকারের এই মন্তব্যের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দুই মিনিটের মধ্যে প্রতিপক্ষের কোনো ভুল বা অযৌক্তিক কথার জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর দাবি করা হলেও তরুণ জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যের বিরুদ্ধেই তাদের আন্দোলন ছিল, অথচ সংসদেই এখন সময়ের বৈষম্য করা হচ্ছে।

ফেসবুক লাইভে হাসনাত আরও বলেন যে, সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়া গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। স্পিকারের মন্তব্যের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলন ও সংসদীয় রীতির মধ্যে যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করা হয়েছে, হাসনাত তাকে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সংসদকে প্রকৃত অর্থেই কার্যকর করতে হলে সব সদস্যের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, বৈষম্যবিরোধী চেতনার যে ম্যান্ডেট নিয়ে তারা সংসদে এসেছেন, তার অবমাননা হবে। এই বিতর্ক এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

স্পিকারের ‘শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্য: সংসদে বৈষম্যের অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর

আপডেট সময় : ১০:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের কড়া অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে সদস্যদের মধ্যে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, একই বিষয়ে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেলেও তাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন বা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে, যা তার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অন্যায্য।

সংসদে গত শুক্রবার ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ নিয়ে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে হাসনাত আবদুল্লাহ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট।” স্পিকারের এই মন্তব্যের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দুই মিনিটের মধ্যে প্রতিপক্ষের কোনো ভুল বা অযৌক্তিক কথার জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর দাবি করা হলেও তরুণ জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যের বিরুদ্ধেই তাদের আন্দোলন ছিল, অথচ সংসদেই এখন সময়ের বৈষম্য করা হচ্ছে।

ফেসবুক লাইভে হাসনাত আরও বলেন যে, সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়া গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। স্পিকারের মন্তব্যের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলন ও সংসদীয় রীতির মধ্যে যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করা হয়েছে, হাসনাত তাকে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সংসদকে প্রকৃত অর্থেই কার্যকর করতে হলে সব সদস্যের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, বৈষম্যবিরোধী চেতনার যে ম্যান্ডেট নিয়ে তারা সংসদে এসেছেন, তার অবমাননা হবে। এই বিতর্ক এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।