ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরে টিফিনের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণ করা টিফিনের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করে সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেট ব্যথা, বমি এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

এ ঘটনায় পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা, জামিলা, রাহিমা, মীম এবং চতুর্থ শ্রেণির রাবেয়া ও তাবাসসুমকে পেটে ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আক্রান্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত তারা পাঁচটি বিদ্যালয়ের তথ্য পেয়েছেন। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় খাবার সরবরাহকারী ডিলারদের সতর্ক করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সমতা ট্রেডার্সের অপারেশন ম্যানেজার এএফএম আহসানুল হাবিব বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৭২৩টি বিদ্যালয়ের ৮৯ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন টিফিন দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে যারা অসুস্থ ছিল তারা সুস্থ হয়ে গেছে। আগামীতে সচেতন থাকা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ ও শাহবাজ শরিফের বৈঠক: গুরুত্ব পেল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

মাদারীপুরে টিফিনের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণ করা টিফিনের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করে সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেট ব্যথা, বমি এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

এ ঘটনায় পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা, জামিলা, রাহিমা, মীম এবং চতুর্থ শ্রেণির রাবেয়া ও তাবাসসুমকে পেটে ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আক্রান্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত তারা পাঁচটি বিদ্যালয়ের তথ্য পেয়েছেন। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় খাবার সরবরাহকারী ডিলারদের সতর্ক করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সমতা ট্রেডার্সের অপারেশন ম্যানেজার এএফএম আহসানুল হাবিব বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৭২৩টি বিদ্যালয়ের ৮৯ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন টিফিন দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে যারা অসুস্থ ছিল তারা সুস্থ হয়ে গেছে। আগামীতে সচেতন থাকা হবে।