ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালি মুসলমানের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়: রিসলির পক্ষপাতদুষ্ট তত্ত্বের বিরুদ্ধে খন্দকার ফজলে রাব্বির লড়াই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলার মুসলমানদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তা হার্বার্ট রিসলির দেওয়া তত্ত্বের এক জোরালো ও যৌক্তিক প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন খন্দকার ফজলে রাব্বি। রিসলি তার গবেষণায় বাঙালি মুসলমানদের নিম্নবর্ণের হিন্দুদের বংশধর হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন, যা খন্দকার রাব্বি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করেন। তিনি দেখান যে, রিসলির গবেষণার পদ্ধতিটি ছিল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।

রিসলি হিন্দুদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বর্ণ ও পেশা অনুযায়ী আলাদাভাবে শারীরিক পরিমাপ নিলেও মুসলমানদের ক্ষেত্রে পুরো সম্প্রদায়কে একটি সাধারণ বিভাগে বিচার করেছেন। খন্দকার রাব্বি যুক্তি দেন যে, সঠিক তুলনার জন্য উভয় পক্ষের একই সামাজিক অবস্থানের মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা উচিত ছিল। রিসলির এই ভুল পদ্ধতির কারণেই গবেষণার ফলাফল বিপরীতমুখী হয়েছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ছিল রিসলির নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে। খন্দকার রাব্বি গবেষণার সহযোগী বাবু কমোদ বেহারি সামন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, রিসলির স্পষ্ট নির্দেশে কেবল নিম্নশ্রেণির মুসলমানদের শারীরিক পরিমাপ নেওয়া হয়েছিল। কোনো সম্ভ্রান্ত বা উচ্চবংশীয় মুসলমানকে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূলত একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই রিসলি এই বৈষম্যমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

বাঙালি মুসলমানের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়: রিসলির পক্ষপাতদুষ্ট তত্ত্বের বিরুদ্ধে খন্দকার ফজলে রাব্বির লড়াই

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলার মুসলমানদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তা হার্বার্ট রিসলির দেওয়া তত্ত্বের এক জোরালো ও যৌক্তিক প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন খন্দকার ফজলে রাব্বি। রিসলি তার গবেষণায় বাঙালি মুসলমানদের নিম্নবর্ণের হিন্দুদের বংশধর হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন, যা খন্দকার রাব্বি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করেন। তিনি দেখান যে, রিসলির গবেষণার পদ্ধতিটি ছিল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।

রিসলি হিন্দুদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বর্ণ ও পেশা অনুযায়ী আলাদাভাবে শারীরিক পরিমাপ নিলেও মুসলমানদের ক্ষেত্রে পুরো সম্প্রদায়কে একটি সাধারণ বিভাগে বিচার করেছেন। খন্দকার রাব্বি যুক্তি দেন যে, সঠিক তুলনার জন্য উভয় পক্ষের একই সামাজিক অবস্থানের মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা উচিত ছিল। রিসলির এই ভুল পদ্ধতির কারণেই গবেষণার ফলাফল বিপরীতমুখী হয়েছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ছিল রিসলির নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে। খন্দকার রাব্বি গবেষণার সহযোগী বাবু কমোদ বেহারি সামন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, রিসলির স্পষ্ট নির্দেশে কেবল নিম্নশ্রেণির মুসলমানদের শারীরিক পরিমাপ নেওয়া হয়েছিল। কোনো সম্ভ্রান্ত বা উচ্চবংশীয় মুসলমানকে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূলত একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই রিসলি এই বৈষম্যমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন।