মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:৫৬ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পদ্মার চরে অন্তহীন সংগ্রাম: অনিশ্চয়তার মাঝে টিকে থাকার লড়াই

  • হালনাগাদ সময় : ০১:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জীবন যেন এক অন্তহীন সংগ্রামের নাম। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, অবকাঠামোর অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের।

‘নদীর একুল ভাঙে, ওকুল গড়ে’ এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটি এখানে কেবল কথার কথা নয়, বরং বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। সর্বনাশা পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি, বসতঘর, ফসলি জমি সব হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তারপর বছরের পর বছর অপেক্ষা কবে আবার নদীর বুকে নতুন চর জেগে উঠবে, কবে গড়ে উঠবে নতুন বসতি। অনেকের এই অপেক্ষা ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। যখনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং পদ্মার পাড়ে নতুন চর জেগে ওঠে, তখনই শুরু হয় আবার নতুন সংগ্রামের পর্ব।

অন্যদিকে জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি ও মৎস্য হলেও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আয় অনিশ্চিত। বন্যা, খরা কিংবা আকস্মিক ভাঙনে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেক পরিবার। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও প্রায় নেই বললেই চলে।

এই নতুন চরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। অনেক এলাকায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। বর্ষাকালে প্রবল স্রোত এবং অনেক সময় নৌকার অভাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে প্রতিবছর নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে, ফলে প্রাণহানির শঙ্কা সবসময় থাকে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ভেসে যায়, নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দেখা দেয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে অস্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যান।

পদ্মা নদীর পাড়ে সারি সারি বাঁধা জেলেনৌকা, পানির ওপর আলতো করে ভেসে বেড়ানো গাঙচিল, জেলের জাল টেনে তোলার দৃশ্য পাড়ে দাঁড়িয়ে যতটা মুগ্ধকর মনে হয়, ঠিক ততটাই ভিন্ন চরে বসবাসরত মানুষের জীবন। মাথার ওপর প্রখর রোদ, রোদে পোড়া প্রান্তর কিংবা হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় সবই এখানে নিত্যসঙ্গী। আবার কখনো বন্যায় চারপাশ ডুবে যায়, কখনো প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়, আবার তীব্র শীতে বইতে থাকে শীতল বাতাস। চরের বাস্তব চিত্র এমনই। আবহাওয়ার বৈরিতার মধ্যেই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। পদ্মা নদীর বুকজুড়ে জেগে ওঠা এই বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলো যেন বাংলাদেশের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিএল: অমিতের জোড়া শতক ও পরানের রেকর্ড ১২ ছক্কায় ঢাকার দুর্দান্ত জয়

27 October 2026

আগামী শনিবার সকাল ১১টায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষামন্ত্রী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পদ্মার চরে অন্তহীন সংগ্রাম: অনিশ্চয়তার মাঝে টিকে থাকার লড়াই

হালনাগাদ সময় : ০১:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জীবন যেন এক অন্তহীন সংগ্রামের নাম। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, অবকাঠামোর অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের।

‘নদীর একুল ভাঙে, ওকুল গড়ে’ এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটি এখানে কেবল কথার কথা নয়, বরং বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। সর্বনাশা পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি, বসতঘর, ফসলি জমি সব হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তারপর বছরের পর বছর অপেক্ষা কবে আবার নদীর বুকে নতুন চর জেগে উঠবে, কবে গড়ে উঠবে নতুন বসতি। অনেকের এই অপেক্ষা ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। যখনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং পদ্মার পাড়ে নতুন চর জেগে ওঠে, তখনই শুরু হয় আবার নতুন সংগ্রামের পর্ব।

অন্যদিকে জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি ও মৎস্য হলেও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আয় অনিশ্চিত। বন্যা, খরা কিংবা আকস্মিক ভাঙনে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেক পরিবার। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও প্রায় নেই বললেই চলে।

এই নতুন চরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। অনেক এলাকায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। বর্ষাকালে প্রবল স্রোত এবং অনেক সময় নৌকার অভাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে প্রতিবছর নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে, ফলে প্রাণহানির শঙ্কা সবসময় থাকে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ভেসে যায়, নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দেখা দেয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে অস্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যান।

পদ্মা নদীর পাড়ে সারি সারি বাঁধা জেলেনৌকা, পানির ওপর আলতো করে ভেসে বেড়ানো গাঙচিল, জেলের জাল টেনে তোলার দৃশ্য পাড়ে দাঁড়িয়ে যতটা মুগ্ধকর মনে হয়, ঠিক ততটাই ভিন্ন চরে বসবাসরত মানুষের জীবন। মাথার ওপর প্রখর রোদ, রোদে পোড়া প্রান্তর কিংবা হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় সবই এখানে নিত্যসঙ্গী। আবার কখনো বন্যায় চারপাশ ডুবে যায়, কখনো প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়, আবার তীব্র শীতে বইতে থাকে শীতল বাতাস। চরের বাস্তব চিত্র এমনই। আবহাওয়ার বৈরিতার মধ্যেই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। পদ্মা নদীর বুকজুড়ে জেগে ওঠা এই বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলো যেন বাংলাদেশের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

Share this news as a Photo Card