পহেলা বৈশাখের নববর্ষ উদ্যাপন বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবে নতুন চালের ক্ষীর, মিষ্টি, নাড়ু, মোয়া, পিঠায় ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বাংলার এই লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নারীর শ্রম ও সৃজনশীলতা। যেকোনো লোকজ উৎসবে নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেখানে সৃষ্টি করে প্রাণপ্রাচুর্য ও আনন্দের আবহ। বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী, যেমন মুড়ি, খই, পিঠা, ক্ষীর, আচার, চাটনি ইত্যাদি গ্রামবাংলার নারীরাই মূলত তৈরি করেন।
বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ছড়া, রূপকথা, উপকথা, ব্রতকথা, পাঁচালি, গীত, খনার বচন, হাসির গল্প—এ সবই লোকজ সাহিত্যের অংশ। পাশাপাশি যাত্রা, পালাগান, গম্ভীরা, গাজন, জারি, সারি, ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়া লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ধারা। পিঠা, নাড়ু, মিষ্টি, দই, বাতাসা, মুড়ি ও চিড়া ইত্যাদি লোকজ খাদ্য এবং লোকজ কারুশিল্প ও কুটিরশিল্পও অতি উচ্চ শিল্পমানসম্পন্ন। এই শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে এ দেশের নারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বাংলার রূপকথা, ছড়া, উপকথা, ব্রতকথা, খনার বচন ও গীতগুলো টিকে আছে মূলত মা, খালা, নানি, দাদি আর ফুপুদের মুখেই। আবহমানকাল থেকে নারীরাই গৃহপ্রাঙ্গণে এঁকেছেন আলপনা। পালাপার্বণে তারা বিভিন্ন ও বিচিত্র ধরনের পিঠা তৈরি করে প্রিয়জনকে আপ্যায়ন করেছেন। তিলের নাড়ু, মুড়ির মোয়া, নলেন গুড়ের পায়েস, মুড়িভাজা, চিড়াকোটা, খুদের জাউ, আচার, আমসত্ত্ব, মোরব্বা, পাঁপড় ইত্যাদি খাদ্য পরম উৎসাহে ও মমতায় তৈরি করেন নারীরাই। এসব লোকজ খাদ্যসামগ্রী আজও বাংলার ঘরে ঘরে টিকে আছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করছে মূলত নারীদের হাত ধরেই।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসবে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সারা দেশের সব মানুষ ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে অংশ নিয়ে থাকেন। লোকজ সংস্কৃতির এই প্রধান উৎসবে বাংলার নারী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। নববর্ষ ঘিরে প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকেই বাংলায় নানা রকম লোকাচার প্রচলিত রয়েছে, যেমন নববর্ষের আগের দিন…
রিপোর্টারের নাম 
























