ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সমালোচনা ও রসিকতা বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবি: এনসিপি মুখপাত্র

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু লেখা না যায়, তাহলে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিন যে তার বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না এবং লিখলে গ্রেপ্তার করা হবে। অথবা একটি আইন করে দিন, যাতে কোনো সমালোচনা, কোনো কথা বা এমনকি রসিকতাও করা যাবে না। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দমনমূলক প্রবণতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল, কিন্তু বিএনপি খুব দ্রুতই তাদের এই পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২৮ জন বিচারককে শোকজ দেওয়া হয়েছে কারণ তারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কিছু আলোচনা করছিলেন যা সরকারের পছন্দ হয়নি। সরকার তাদের শোকজ দিয়ে বোঝাতে চেয়েছে যে, রায় সরকারের পছন্দের বাইরে দেওয়া যাবে না এবং নিজেদের মধ্যে কোনো আলোচনা বা টেক্সটিংও করা যাবে না যা সরকারের অপছন্দ হবে। তিনি এটিকে আগামীতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কিভাবে চলতে যাচ্ছে তার একটি ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আবার গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে এবং বেশিরভাগ ঘটনাই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখি করার ফলে ঘটছে।

আসিফ বলেন, বিএনপি যত খারাপ কাজ করবে, যত জনবিরোধী কাজ করবে সেটা দ্রুতই করে ফেলুক, কারণ তারা আবার ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে চান না। সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দুই তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার ফলে এই সংসদ একটা অকার্যকর সংসদে পরিণত হয়েছে। সংসদ সদস্যরা কথা বললেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই এবং বিরোধী দল হিসেবে তাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন যে, জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ এবং তা থেকে যে অংশ নিয়ে গণভোট হলো, যা জনগণ অনুমোদন করেছে, সেটিই শেষ কথা হওয়ার কথা এবং অক্ষরে অক্ষরে তা বাস্তবায়ন করার কথা ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

সমালোচনা ও রসিকতা বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবি: এনসিপি মুখপাত্র

আপডেট সময় : ১০:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু লেখা না যায়, তাহলে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিন যে তার বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না এবং লিখলে গ্রেপ্তার করা হবে। অথবা একটি আইন করে দিন, যাতে কোনো সমালোচনা, কোনো কথা বা এমনকি রসিকতাও করা যাবে না। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দমনমূলক প্রবণতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল, কিন্তু বিএনপি খুব দ্রুতই তাদের এই পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২৮ জন বিচারককে শোকজ দেওয়া হয়েছে কারণ তারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কিছু আলোচনা করছিলেন যা সরকারের পছন্দ হয়নি। সরকার তাদের শোকজ দিয়ে বোঝাতে চেয়েছে যে, রায় সরকারের পছন্দের বাইরে দেওয়া যাবে না এবং নিজেদের মধ্যে কোনো আলোচনা বা টেক্সটিংও করা যাবে না যা সরকারের অপছন্দ হবে। তিনি এটিকে আগামীতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কিভাবে চলতে যাচ্ছে তার একটি ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আবার গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে এবং বেশিরভাগ ঘটনাই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখি করার ফলে ঘটছে।

আসিফ বলেন, বিএনপি যত খারাপ কাজ করবে, যত জনবিরোধী কাজ করবে সেটা দ্রুতই করে ফেলুক, কারণ তারা আবার ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে চান না। সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দুই তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার ফলে এই সংসদ একটা অকার্যকর সংসদে পরিণত হয়েছে। সংসদ সদস্যরা কথা বললেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই এবং বিরোধী দল হিসেবে তাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন যে, জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ এবং তা থেকে যে অংশ নিয়ে গণভোট হলো, যা জনগণ অনুমোদন করেছে, সেটিই শেষ কথা হওয়ার কথা এবং অক্ষরে অক্ষরে তা বাস্তবায়ন করার কথা ছিল।