ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় ও প্রস্তাবনা

ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই আয় ব্যবহার করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদ পুনরায় সমৃদ্ধ করতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি পেলে ইরান বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয় করতে পারবে। প্রতি জাহাজে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলার টোল আদায় করা হলে, শুধু তেলবাহী ট্যাংকার থেকেই মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে।

ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল, তা সাময়িক না হয়ে স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতই চাপ প্রয়োগ করুক না কেন, তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না, কারণ তারা বিশ্ব জ্বালানির ২০ শতাংশ পার হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান আমেরিকাকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে হরমুজের ওপর নিজেদের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির পাশাপাশি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো, ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত, যা ২ থেকে ২.৫ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বহন করত। তবে, ইরান কর্তৃক হামলার পর থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।

হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। গত মাসে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজ দেশে চাপের মুখে ফেলেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে আবার কিছু জাহাজকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার ইঙ্গিত দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেতুর অভাবে রংপুরের তারাগঞ্জে ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় ও প্রস্তাবনা

আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই আয় ব্যবহার করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুদ পুনরায় সমৃদ্ধ করতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি পেলে ইরান বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয় করতে পারবে। প্রতি জাহাজে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলার টোল আদায় করা হলে, শুধু তেলবাহী ট্যাংকার থেকেই মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে।

ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল, তা সাময়িক না হয়ে স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতই চাপ প্রয়োগ করুক না কেন, তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না, কারণ তারা বিশ্ব জ্বালানির ২০ শতাংশ পার হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান আমেরিকাকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে হরমুজের ওপর নিজেদের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির পাশাপাশি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো, ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত, যা ২ থেকে ২.৫ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বহন করত। তবে, ইরান কর্তৃক হামলার পর থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।

হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। গত মাসে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজ দেশে চাপের মুখে ফেলেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে আবার কিছু জাহাজকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার ইঙ্গিত দেয়।