মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে ‘পুরো দেশজুড়ে বোমা হামলার’ হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি চলমান সংঘাতের পেছনে একটি নতুন যুক্তি তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তা স্বয়ং ঈশ্বরই চান। তবে, তিনি এও বলেছেন যে ঈশ্বর সংঘাত পছন্দ করেন না।
গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চালাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ঈশ্বর সমর্থন করেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বহু মানুষের প্রাণ কেড়েছে, অসংখ্য মানুষকে আহত করেছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু ঘটেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তা-ই মনে করি, কারণ ঈশ্বর ভালো। আর ঈশ্বর চান মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকে।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার যুদ্ধবিষয়ক ভাষার একটি পরিবর্তন নির্দেশ করে। তিনি আগে বিভিন্ন সময়ে এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে ‘রেজিম পরিবর্তন’ এর মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি সংঘাতটিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে আরও বিস্তৃত হামলার সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরছেন।
এর আগে, তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরানের বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের সরকার উৎখাত করতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দয়া করে বোমা হামলা চালিয়ে যান’ বলে অনুরোধ করছে।
সংঘাত বাড়তে থাকায় তিনি ঈশ্বরের দিকনির্দেশনা চেয়েছেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সহিংসতায় ঈশ্বর দুঃখ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর যা ঘটছে তা পছন্দ করেন না। আমিও পছন্দ করি না। অনেকে বলে, আমি এটা উপভোগ করি। আমি করি না। আমি এটা উপভোগ করি না।’
তিনি আরও বলেন, তার মেয়াদকালে তিনি ‘আটটি যুদ্ধ শেষ করেছেন’ এবং ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এগুলো আমাকে এখন আমরা যা করছি তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ দেয়।’
রিপোর্টারের নাম 























