ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ছেলের জন্য রক্ত নিয়ে ফিরে শুনি ও আর নেই: ট্রাইব্যুনালে শহীদ রাকিবের মায়ের আবেগঘন সাক্ষ্য

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ রাকিব হোসেনের মা হাসি আক্তার। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে রাকিব আফতাবনগর পাওয়ার গ্রিডে ক্লিনার হিসেবে কাজ করত এবং শুরু থেকেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ছিল।

আবেগজড়িত কণ্ঠে হাসি আক্তার বলেন, গত ১৯ জুলাই রামপুরা ব্রিজের ঢালে বন্ধুদের নিয়ে আন্দোলন করার সময় গুলিবিদ্ধ হয় রাকিব। খবর পেয়ে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে তার কপালে শেষ চুমু খেয়ে তিনি যখন সুস্থ হয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন, তখনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় যে রাকিব আর নেই। তার এক ভাই রক্ত নিয়ে এলেও চিকিৎসকরা জানান, সেই রক্তের আর প্রয়োজন নেই।

সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও বিজিবি কর্মকর্তাদের কঠোর বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, তারা শুধু তার ছেলেকেই নয়, অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। এই শোক বুকে নিয়ে তিনি এখন কেবল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মসজিদে ফজরের নামাজে গুলি, দুই মুসল্লি আহত

ছেলের জন্য রক্ত নিয়ে ফিরে শুনি ও আর নেই: ট্রাইব্যুনালে শহীদ রাকিবের মায়ের আবেগঘন সাক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ রাকিব হোসেনের মা হাসি আক্তার। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে রাকিব আফতাবনগর পাওয়ার গ্রিডে ক্লিনার হিসেবে কাজ করত এবং শুরু থেকেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ছিল।

আবেগজড়িত কণ্ঠে হাসি আক্তার বলেন, গত ১৯ জুলাই রামপুরা ব্রিজের ঢালে বন্ধুদের নিয়ে আন্দোলন করার সময় গুলিবিদ্ধ হয় রাকিব। খবর পেয়ে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে তার কপালে শেষ চুমু খেয়ে তিনি যখন সুস্থ হয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন, তখনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় যে রাকিব আর নেই। তার এক ভাই রক্ত নিয়ে এলেও চিকিৎসকরা জানান, সেই রক্তের আর প্রয়োজন নেই।

সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও বিজিবি কর্মকর্তাদের কঠোর বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, তারা শুধু তার ছেলেকেই নয়, অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। এই শোক বুকে নিয়ে তিনি এখন কেবল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।