ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সিম রিপ্লেসমেন্টে ‘দ্বৈত কর’ বাতিলের দাবি টেলিকম খাতের: রাজস্ব ঘাটতির চিন্তায় এনবিআর

গ্রাহকের হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া সিম কার্ড প্রতিস্থাপনের (রিপ্লেসমেন্ট) ক্ষেত্রে পুনরায় কর আরোপকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশের টেলিকম খাত। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ‘ফিকি’ (FICCI)-র প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই দাবি তুলে ধরা হয়। টেলিকম অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে রবি আজিয়াটার সিইও জিয়াদ সাতারা যুক্তি দেখান যে, একটি সিম প্রথমবার বিক্রির সময়ই নিয়ম অনুযায়ী কর পরিশোধ করা হয়। ফলে একই সংযোগের জন্য সিম রিপ্লেসমেন্টের সময় পুনরায় কর আদায় করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি নতুন সিমের কর নয়, বরং একই গ্রাহকের জন্য দ্বিতীয়বার কর প্রদানের একটি বোঝা, যা মূলত একটি ‘ডাবল ট্যাক্সেশন’ বা দ্বৈত কর ব্যবস্থা।

টেলিকম খাতের এই যুক্তির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনিও এই কর ব্যবস্থাকে সঠিক মনে করেন না এবং গত বছরও কর্মকর্তাদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই কর বাতিলের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশাল অংকের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা। এনবিআর চেয়ারম্যানের মতে, কর্মকর্তারা যখন দেখেন একটি নির্দিষ্ট খাত থেকে বড় অংকের রাজস্ব আসছে, তখন বিকল্প আয়ের উৎস ছাড়া সেটি বাতিল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা রাজস্বের নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছি, ততক্ষণ এটি কার্যকর করা কঠিন।”

তবে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্সের বিষয়টি ধীরে ধীরে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি মন্তব্য করেন যে, এনবিআর এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবে যে এটি কোনো ‘ভালো প্র্যাকটিস’ নয় এবং ভবিষ্যতে পদ্ধতিটিকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দিকে তারা মনোযোগ দেবেন। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই দ্বৈত কর বাতিলের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

সিম রিপ্লেসমেন্টে ‘দ্বৈত কর’ বাতিলের দাবি টেলিকম খাতের: রাজস্ব ঘাটতির চিন্তায় এনবিআর

আপডেট সময় : ১২:০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

গ্রাহকের হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া সিম কার্ড প্রতিস্থাপনের (রিপ্লেসমেন্ট) ক্ষেত্রে পুনরায় কর আরোপকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশের টেলিকম খাত। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ‘ফিকি’ (FICCI)-র প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই দাবি তুলে ধরা হয়। টেলিকম অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে রবি আজিয়াটার সিইও জিয়াদ সাতারা যুক্তি দেখান যে, একটি সিম প্রথমবার বিক্রির সময়ই নিয়ম অনুযায়ী কর পরিশোধ করা হয়। ফলে একই সংযোগের জন্য সিম রিপ্লেসমেন্টের সময় পুনরায় কর আদায় করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি নতুন সিমের কর নয়, বরং একই গ্রাহকের জন্য দ্বিতীয়বার কর প্রদানের একটি বোঝা, যা মূলত একটি ‘ডাবল ট্যাক্সেশন’ বা দ্বৈত কর ব্যবস্থা।

টেলিকম খাতের এই যুক্তির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনিও এই কর ব্যবস্থাকে সঠিক মনে করেন না এবং গত বছরও কর্মকর্তাদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই কর বাতিলের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশাল অংকের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা। এনবিআর চেয়ারম্যানের মতে, কর্মকর্তারা যখন দেখেন একটি নির্দিষ্ট খাত থেকে বড় অংকের রাজস্ব আসছে, তখন বিকল্প আয়ের উৎস ছাড়া সেটি বাতিল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা রাজস্বের নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছি, ততক্ষণ এটি কার্যকর করা কঠিন।”

তবে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্সের বিষয়টি ধীরে ধীরে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি মন্তব্য করেন যে, এনবিআর এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবে যে এটি কোনো ‘ভালো প্র্যাকটিস’ নয় এবং ভবিষ্যতে পদ্ধতিটিকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দিকে তারা মনোযোগ দেবেন। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই দ্বৈত কর বাতিলের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।