ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যস্থতার চেষ্টা: ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানকে শান্তিচুক্তিতে আনতে মরিয়া ভ্যান্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘নরক নামিয়ে আনার’ হুমকির পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেমেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

রোববার গভীর রাতে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু হলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আরও আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা।

এর আগে, ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, যদি মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে (ইস্টার্ন টাইম) ইরান কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে তিনি বেসামরিক অবকাঠামোসহ দেশটির ‘সবকিছু ধ্বংস করে দেবেন’।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এই আলোচনার পরেও হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম এবং প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি এখনো প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পায়নি।

এই গোপন আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনা করেন জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে নিজেদের অবস্থান ও দাবি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। তবে সরকারের একজন কর্মকর্তা এও বলেছেন যে, চলমান আলোচনা ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা ও যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।

অন্যদিকে, একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না এবং ট্রাম্পের চাপ বা সময়সীমাও মেনে নেবে না।

দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করুক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

মধ্যস্থতার চেষ্টা: ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানকে শান্তিচুক্তিতে আনতে মরিয়া ভ্যান্স

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘নরক নামিয়ে আনার’ হুমকির পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেমেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

রোববার গভীর রাতে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু হলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আরও আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা।

এর আগে, ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, যদি মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে (ইস্টার্ন টাইম) ইরান কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে তিনি বেসামরিক অবকাঠামোসহ দেশটির ‘সবকিছু ধ্বংস করে দেবেন’।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এই আলোচনার পরেও হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম এবং প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি এখনো প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পায়নি।

এই গোপন আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনা করেন জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে নিজেদের অবস্থান ও দাবি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। তবে সরকারের একজন কর্মকর্তা এও বলেছেন যে, চলমান আলোচনা ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা ও যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।

অন্যদিকে, একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না এবং ট্রাম্পের চাপ বা সময়সীমাও মেনে নেবে না।

দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করুক।