ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ওয়ান-ইলেভেন ও বন্দর দুর্নীতি: সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের গ্রেপ্তারের গুঞ্জন

২০০৭ সালের বহুল আলোচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর অন্যতম কুশীলব এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেনের সময় নির্বাচন কমিশনে থেকে সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে কারচুপির লক্ষ্যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনকে সর্বদা চাপে রাখতেন। বর্তমানে তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই নয়, বরং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের তথ্যও বেরিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগসাজশ, বে-টার্মিনালের মাটি ভরাট প্রকল্প এবং বিভিন্ন সিভিল কাজে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করতেন এই উপদেষ্টাপুত্র। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা বর্তমান প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে সাখাওয়াত হোসেনের সংশ্লিষ্টতার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট ডিজাইনের গোপন তথ্য পাচার এবং নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ দলকে জেতানোর প্রক্রিয়ায় তাঁর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারী দল মনে করছে। চট্টগ্রামের বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে তাঁর ছেলের হস্তক্ষেপ ও লবিং বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগগুলোও এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এই দ্বিমুখী সংকটে সাখাওয়াত হোসেনের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ওয়ান-ইলেভেন ও বন্দর দুর্নীতি: সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের গ্রেপ্তারের গুঞ্জন

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

২০০৭ সালের বহুল আলোচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর অন্যতম কুশীলব এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেনের সময় নির্বাচন কমিশনে থেকে সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে কারচুপির লক্ষ্যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনকে সর্বদা চাপে রাখতেন। বর্তমানে তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই নয়, বরং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের তথ্যও বেরিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগসাজশ, বে-টার্মিনালের মাটি ভরাট প্রকল্প এবং বিভিন্ন সিভিল কাজে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করতেন এই উপদেষ্টাপুত্র। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা বর্তমান প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে সাখাওয়াত হোসেনের সংশ্লিষ্টতার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট ডিজাইনের গোপন তথ্য পাচার এবং নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ দলকে জেতানোর প্রক্রিয়ায় তাঁর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারী দল মনে করছে। চট্টগ্রামের বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে তাঁর ছেলের হস্তক্ষেপ ও লবিং বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগগুলোও এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এই দ্বিমুখী সংকটে সাখাওয়াত হোসেনের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।